ঢাকারবিবার , ১৭ মে ২০২৬
  1. অনিয়ম ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আইটি
  4. আইন ও বিচার বিভাগ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম ও জীবন
  7. কৃষি
  8. খেলা
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. প্রবাস
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ‘বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ হুমায়ুন কবিরঃ
মে ১৭, ২০২৬ ৮:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, “সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আজ ১৭ মে ‘২৬, রোজ-রবিবার, সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় আব্দুস সালাম মিলনায়তন, জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, “সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

সভায় প্রধান অতিথি: এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (শিল্প বিষয়ক মন্ত্রনালয়) ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব-বিএনপি, বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,

সভাপতিত্ব করবেন, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন – প্রফেসর বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম-ডিন, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম-অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট। জিও টেকনিক্যাল পরিবেশ বান্ধব বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাল সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ সহনীয় আবাসন বিশেষজ্ঞ। তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত।

ইঞ্জিঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন-পানি সংকট বিষয়ক গবেষক।

সুমন সামস – চেয়ারম্যান, নোঙর ট্রাস্ট, বাংলাদেশ চেয়ারম্যান, নোঙর ট্রাস্ট, বাংলাদেশ।

প্রকৌশলী মোঃ বেলায়েত হোসেন-সমন্বয়ক, হাওরাঞ্চলবাসি

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবঃ), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শাহ ইসরাত আজমেরী-প্রধান নির্বাহী এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ নেটওয়ার্ক

ইবনুল সাঈদ রানা-সম্পাদক আব’সন নিউজ ও মুখপাত্র, প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ জাতীয় কমিটি

এফ এম আনোয়ার হোসাইন-সভাপতি- রিভারাইন পিপল উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বন রক্ষা ও বনায়নের ভূমিকা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ চলন বিলের অস্তিত্ব রক্ষায় কনপীয়। জলাশয় ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ পাহাড় ধস ও নদী ভাঙ্গন রোধ: ভিটি বারের ভূমিকাবন্যা ও খরা সমন্বিত সমাধান। গঙ্গা চুক্তি, অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের অধিকার হাওরাঞ্চলের নদ-নদী।

প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ডিজাইন নগরায়নে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি: তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকৃতি ও জীবন।আন্তঃসীমান্ত নদী ও জাতিসংঘ নদী কনভেনশন সনদ।

সার্বিক সহযোগিতায়: ফরিদুল ইসলাম ফরিদ

সভাপতি, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি

চেয়ারম্যান, রিভার এন্ড ক্লাইমেট রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

আরও অনেকে মতামত প্রদান করেন

সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন বিষয়ক

নাম

মতবিনিময় সভার বিশেষজ্ঞ আলোচকবৃন্দ:

প্রফেসর ডক্টর মাহমুদুল ইসলাম (সেলিম)

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক

পরিচিতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক অধ্যাপক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বিপদাপন্নতা অধ্যায়ন প্রতিষ্ঠানে অ্যাডজ্যঙ্ক অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। টিই এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা।

বিষয়

সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন।

অধ্যাপক ডঃ ফিরোজ আহমেদ

এমিরেটস অধ্যাপক, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ। সাবেক অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট। তিনি প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক ও তিনটি লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড অর্জন করেন।

নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

অধ্যাপক ডঃ আদিল মুহাম্মদ খান

পরিকল্পনাবিদ, অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (IPD)

নগর, অঞ্চল ও গ্রামীন পরিকল্পনা

অধ্যাপক ডঃ আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী

ডঃ আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী, অধ্যাপক ও প্রাক্তন ডিসিপ্লিন প্রধান, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলাভূমি ও পানি দূষণ, পরিবেশ আইন ও নীতি), ‘বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল এ্যাওয়ার্ড’ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার এ ভূষিত;

সুন্দরবন ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা

প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া

ভাইস চ্যান্সেলর, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। কোঅর্ডিনেটর, হালদা রিভার রির্সাচ ল্যাবরেটরি ও সিন্ডিকেট সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, গ্রামীন ব্যাংক। তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তজার্তিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত নদী বিশেষজ্ঞ।

রহস্যময়ী নদী হালদা (মৎস্য হেরিটেজ): প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়।

অধ্যাপক ডঃ মোঃ মুনসুর রহমান

অধ্যাপক, পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (IWFM) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট, নদী ও বন্যা ব্যস্থাপনা এবং পরিবেশ বান্ধব নদী প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ।

যমুনা ব্রহ্মাপুত্র নদী ব্যবস্থাপনা

অধ্যাপক ডঃ আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার

অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, স্টাম ফোর্ডই উনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং চেয়ারম্যান, বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন মেন্দ্র (ক্যাপস), যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দোলন (বাপা)।

১ ১৭ই মে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আয়োজিত সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মত

বিনিময় সভার- মূল প্রবন্ধ

২ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক, জাতিসংঘের দুর্যোগ ব্যসবথাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা; প্রতিষ্ঠাতা, সেন্টার ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং নেটওয়ার্ক (Centre for DMERT); খণ্ডকালীন শিক্ষক, আইডিএমভিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল: salimmi2001@yahoo.co.uk টেলিফোন: +৮৮০১৯২৭০৯৭২৯১

1সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা- মূল প্রবন্ধ

জলবায়ু সহনশীল নগরায়ন, পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি ঢাকা ১৯৮৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৫৬% সবুজ এলাকা হারিয়েছে (DoE, 2025)। ফলে নগর তাপমাত্রা, জলাবদ্ধতা ও দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারনেই বর্তমানে নগর উন্নয়নে গুরুত্ব পাচ্ছে- জলাভূমি সংরক্ষণ, সবুজ অবকাঠামো, নগর জলব্যবস্থাপনা, বিকেন্দ্রীভূত স্যানিটেশন, নগর সবুজ করিডোর, জলবায়ু সহনশীল আবাসন। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ২৩,৬৮৮ টন পৌর বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার প্রায় ৭০% জৈব বর্জ্য (DoE, 2025)। বর্তমানে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমের বর্জ্য পৃথকীকরণ, কম্পোস্টিং, জৈব সার উৎপাদন, সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (EPR), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP); অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের অন্তর্ভুক্তকরণ।

সমন্বিত শাসনব্যবস্থা ও ক্লাস্টারভিত্তিক পরিকল্পনাঃ বাংলাদেশে পরিবেশ, পানি, কৃষি, নদী ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭৭টিরও বেশি সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘাটতি বাস্তবায়নের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে “Cluster System” ও “Systems Thinking” ভিত্তিক সমন্বিত শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং প্রস্তাবিত কাঠামোতে থাকবে (১) নদী অববাহিকা ভিত্তিক Regional Governance Cluster গঠন, (২) পরিকল্পনা কমিশনের অধীনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল, (৩) GIS-ভিত্তিক যৌথ তথ্য প্ল্যাটফর্ম, (৪) বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে Delta Coordination Platform, (৫) যৌথ বাজেট ও মনিটরিং ব্যবস্থা এবং (৬) বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততা। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উদাহরণ হিসেবে নেদারল্যান্ডস -“Room for the River” যার মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বন্যা ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে সফল উদাহরণ (OECD, ২০১৯)। দক্ষিণ কোরিয়া -Integrated River Basin Governance নদী ব্যবস্থাপনা, নগর পানি সরবরাহ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একীভূত প্রশাসনিক কাঠামোর সাফল্য পায় (World Bank, ২০২০)। নেপাল-Community Forestry Model কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন বন ব্যবস্থাপনায় জীববৈচিত্র্য ও জীবিকা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় (FAO, ২০২১)।

প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহঃ (১) পরিবেশগত অভিবাসনের এর ফলে নদীভাঙন ও উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসন বৃদ্ধি। (২) জলবায়ু পরিবর্তন এর ফলে লবণাক্ততা, বন্যা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদন কম। (৩) আর্থিক সীমাবদ্ধতারর কারণে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব; (৪); বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়করন সময় সাপেক্ষ এবং (৫) আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার ফলে উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব।

ভবিষ্যৎ করণীয়ঃ (১) সমন্বিত শাসনব্যবস্থা জোরদার করতে নদী অববাহিকা ভিত্তিক পরিকল্পনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়াতে হবে। (২) প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান করতে, খালি এলাকায়, খাস জমিতে, নদীতীরে বনায়ন, ম্যানগ্রোভ সম্প্রসারণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও সামাজিক বনায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। (৩) ডিজিটাল পরিবেশ ব্যবস্থাপনা যেমন GIS, স্যাটেলাইট ও স্মার্ট ড্যাশবোর্ডভিত্তিক মনিটরিং সম্প্রসারণ করতে হবে। (৪) পুনর্জাগরণমূলক কৃষি ও প্রকৃতিভিত্তিক কৃষি সমাধান যেমন লবণসহিষ্ণু ফসল, জৈব সার, আগাছানাশক ও কৃষি-বনায়ন সম্প্রসারণ করতে হবে। (৫) কমিউনিটির অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে নারী, যুব ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। (৬) জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন বানিজ্য গুরুত্ব দিয়ে কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন, REDD+ ও সবুজ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

উপসংহারঃ ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করছে নদী, কৃষি, বনায়ন ও দুর্যোগ নিয়ে সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ওপর, এবং এই খাতগুলিকে পৃথক খাত হিসেবে না দেখে আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের প্রধান কৌশলগত দলিল এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কমিউনিটি অংশগ্রহণভিত্তিক উন্নয়ন ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন হবে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতকরন। এভাবেই বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় বনায়ন, পরিবেশ নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি জলবায়ু সহনশীল, টেকসই ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে।

3সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা- মূল প্রবন্ধ

আওতায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেঃ (১) পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA); (২) কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন (SEA); (৩) পরিবেশগত কার্যবিধি (ECOPs); (8) GIS 3 Remote Sensing ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ; (৫) ISO 14001:2015 পরিবেশ ব্যবস্থাপনা মানদণ্ড; (৬) কমিউনিটি-ভিত্তিক বন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা; (৭) সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (IWRM); (৮) বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ECO DRR)। এই কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো- (ক) নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; (খ) পানি নিরাপত্তা জোরদার করা; (গ) পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা; (ঘ) জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা; (উ) সামাজিক ও মানবিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের প্রধান কৌশলগত দলিল (GED, 2018) এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ (BDP ২১০০) কে মূল ভিত্তি হিসেবে এই পরিকল্পনায় ছয়টি “হটস্পট” চিহ্নিত করেছে (১) উপকূলীয় অঞ্চল; (২) নদী ও মোহনা এলাকা; (৩) হাওর ও আকস্মিক বন্যা অঞ্চল; (৪) খরা ও বরেন্দ্র অঞ্চল; (৫) পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ও (৬) নগর অঞ্চল।

বনায়ন, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানঃ বাংলাদেশ উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নে বিশ্বব্যাপী একটি সফল উদাহরণ। সুন্দরবন ও উপকূলীয় বেষ্টনী বন যা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমায়; জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ করে; কার্বন শোষণ বৃদ্ধি করে; জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে (MoEFCC, 2025)। এছাড়া REDD+ ও কমিউনিটি ফরেস্ট্রি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের REDD+ কৌশল গুরুত্ব দিচ্ছে যা বন উজাড় কমানো; সামাজিক বনায়ন বৃদ্ধি; কমিউনিটি ফরেস্ট্রি; বিকল্প জীবিকা সৃষ্টি; এবং কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও এ কর্মসূচী গুলি নারী, যুব ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে নার্সারি ব্যবস্থাপনা; বৃক্ষরোপণ; কৃষি-বনায়ন; পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পানি উন্নয়নঃ এক্ষেত্রে তিস্তা ও পদ্মা অববাহিকা ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পাচ্ছে। তিস্তা ও পদ্মা নদী অববাহিকায় পানির প্রবাহ হ্রাস, পলি জমা, নদীভাঙন, বন্যা ও খরা বাংলাদেশের কৃষি, নৌপরিবহন, জীবিকা ও পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলছে দেশের উন্নয়নে, সে কারণে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

নদী ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নঃ বাংলাদেশ প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মূল উপাদানসমূহ (১) নদী পুনঃখনন; (২) নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ; (৩) পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি; (৪) নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন; (৫) নতুন ভূমি পুনরুদ্ধার; (৬) জলাভূমি ও পুরনো নদী চ্যানেল পুনরুজ্জীবন; (৭) বন্যা ও খরা ব্যবস্থাপনা। এখানে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা যা তিস্তা ও গঙ্গা অববাহিকার টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন, সেখানে (১) বাধ্যতামূলক রিয়েল-টাইম পানি তথ্য বিনিময়; (২) যৌথ নদী কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি; (৩) দীর্ঘমেয়াদি পানি বণ্টন চুক্তি; এবং (৪) সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। উল্লেখ্য নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কর্মসূচি (RMIP) এবং ব্রহ্মপুত্র ডান বাঁধ (BRBE) প্রকল্প বর্তমানে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমি সুরক্ষা ও জনবসতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (ADB, ২০২৪)। এই প্রকল্পগুলোর আওতায় বাড়িয়ে, ড্রেজিং, নদীতীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক উন্নয়ন, নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পিত বসতি এবং বাজার উন্নয়ন একসঙ্গে করা যায়। বাঁধের উপর রাস্তা “Road-on-Embankment” মডেল একই সঙ্গে বন্যা সুরক্ষা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, দুর্যোগকালীন লজিস্টিকস নিশ্চিত করা যায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল যোগাযোগ ও স্মার্ট মনিটরিংঃ চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বনায়ন, সৌরবিদ্যুৎ; বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা; মাইক্রো-গ্রিড এর মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। GIS, Remote Sensing, Satellite Monitoring 3 Smart Dashboard বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে যার মাধ্যমে; বন পর্যবেক্ষণ; ভূমি ব্যবহার বিশ্লেষণ; নদী পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ পূর্বাভাস; কৃষি পরামর্শ, নগর পরিকল্পনা; এবং জলাভূমি পর্যবেক্ষণে কাজ হচ্ছে।

পরিবহন, জ্বালানি ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কঃ অভ্যন্তরীণ নৌপথ (IWT) বাংলাদেশে নৌপথভিত্তিক পরিবহন সড়ক পরিবহনের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব (ADB, ২০২৪)। নৌপথ পুনরুদ্ধার এর মাধ্যমে কৃষিপণ্য পরিবহন; আঞ্চলিক বাণিজ্য; গ্রামীণ সংযোগ; দুর্যোগকালীন সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে বলে বক্তারা বলে জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।