ঢাকা। ১১মে, ২০২৬
শৈশব কাল থেকেই গানের সঙ্গে সখ্যতা ছিলো বেশ। প্রথমবার যখন মঞ্চে গান করেন, তখন তাঁর বয়স ছিলো মাত্র পাঁচ বছর। বলছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া আফরীন মৌরী কথা। মাটির গান গেয়ে মঞ্চ থেকে অনলাইনড়দুই জগতে দর্শকদের মন জয় করেছেন যিনি।
স্বাভাবিক পরিবেশে হঠাৎ ট্রেনে, ক্যাম্পাসে বা বন্ধুদের সাথে ঘরোয়া পরিবেশে তার গান গাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যা লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
তিনি ছোটবেলা থেকেই গানের সাথে যুক্ত এবং বিশেষ করে মাটির গান বা লোকজ সঙ্গীত পরিবেশনে তিনি বেশ পারদর্শী।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী, যা তার পরিচয়ে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
‘সোনা দানা’ দামি গহনা’ গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। শুরুতে এই গানই তাঁকে এনে দিয়েছে লাখো দর্শকের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা।ফেসবুক তাঁর বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ছুঁইছুঁই।
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানায় কেটেছে নাদিয়া আফরীন মৌরী’র শৈশব কাল। তাঁর মা গান ভালোবাসতেন সে সুবাধে নাদিয়ার ছিলো গানের প্রতি আগ্রহ সেখান থেকেই তাঁকে গানের স্কুলে ভর্তি করে দেন। গুরু মৃনাল কান্তি রায়ের কাছে গানের শিক্ষারম্ভ।
গ্রামবাংলার গান, মাটির গানের প্রতি ছিল বেশি ঝোঁক। লোকসংগীতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
মাটির গান গেয়ে মঞ্চ থেকে অনলাইনড়দুই জগতেই দর্শকদের পাশাপাশি নিজেরও সাফল্য জয় করেছেন নাদিয়া আফরীন মৌরী। বরিশাল, গাজীপুর, কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, গোপালগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্টেজ মঞ্চায়ন করে পেয়েছেন বহু মানুষের ভালোবাসা ও দর্শকদের জনসমর্থন।
নাদিয়া আফরীন বলেন, ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন এবং অফলাইন সকল প্ল্যাটফর্মে আমার গান শুনে মানুষ আমায় এত ভালোবাসবে, এটা আমার দৃষ্টির বাহিরে ছিল। এতএত ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।
আমার এমন ভালোবাসা আমি শেষ নিঃশ্বাস আগপর্যন্ত পেতে চাই আমি চাই গানের মাধ্যমেই মানুষ আমাকে আজীবন স্বরনে রাখুক।’ আমার অনুপ্রেরণা আমার দর্শকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালোবাসা থাকবে আজীবন।
পরিবারের সমর্থন থাকলেও গান গাওয়া নিয়ে আশপাশ থেকে শুনতে হয়েছে নানান অভিমত ও কটাক্ষ। শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছিল অসন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া। তবে কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেননি নাদিয়া আফরীন মৌরী।
গানকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে নাদিয়া যে লেখাপড়া থেকে দূরীভূত হয়েছেন, তাও কিন্তু না। শত কষ্ট হলেও দুটো কাজই একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যম গুলোতে জনপ্রিয়তা পাওয়া নাদিয়া কখনো সমৃদ্ধ, ভিউ বা ফলোয়ার নিয়ে উদ্বিগ্নতা নেই। তিনি এগিয়ে যেতে চান নিজের মতো করে। তাঁর লক্ষ্যে এখন নিজের একটি অ্যালবাম।
নাদিয়ার মতে, সব দুঃখ, কষ্ট, চিন্তা-ভাবনা থেকে তাঁকে দূরে রাখে গান। যখন খুব বেশি খুশি থাকেন, সেই খুশিকে উদযাপন করতে বেছে নেন গান।
আবার মন খারাপের সময়ও গানই হয় তাঁর সাথী। আগত সময়ে অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত হলেও ছেড়ে যাবেন না গান।
