নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ মে, ২০২৬
চাঁদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রাজ্জাক হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড় সমান অনিয়ম, দুর্নীতি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক।
দুর্নীতির আখড়ায় এমপির হানা
দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রাজ্জাক হাসানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরকারি ফির বাইরে কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সরাসরি অফিসে হানা দেন এমপি শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের সাথে কথা বলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়ে না। দলিলের নকল তোলা থেকে শুরু করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন—সব কিছুতেই নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়। আব্দুর রাজ্জাক হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দলিল লেখকদের মাধ্যমে একটি অলিখিত ‘রেট চার্ট’ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।
এমপি মানিকের কঠোর হুঁশিয়ারি
অভিযানের সময় সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রাজ্জাক হাসানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক। তিনি বলেন:
“সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। আপনার বিরুদ্ধে পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। জিম্মি করে টাকা আদায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় বা রক্তচক্ষু দেখিয়ে দুর্নীতি টেঁকানো যাবে না। হয় সংশোধন হন, নয়তো জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।”
দালালমুক্ত অফিসের ঘোষণা
এমপি মানিক উপস্থিত দলিল লেখক ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাঁদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে দালালের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না। আজ থেকেই যেন সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এরপরেও যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাব-রেজিস্ট্রারের অবস্থান
এমপির এই আকস্মিক উপস্থিতি এবং অভিযোগের মুখে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রাজ্জাক হাসান অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলতে প্রশাসনিক তদন্ত ও কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
এই ঝটিকা অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুরের সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এমপির এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
