ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে প্রত্যয়ী বাংলাদেশকে নিয়ে সিলেট টেস্টে সতর্ক রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। আগামী বুধবার শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিকরা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকায় প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়েও বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে স্যামির দল। তবে এই সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে ভালোভাবেই চেনেন স্যামি। স্যামি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক ছিলেন, তখন সিমন্স ছিলেন দলটির কোচ। তাঁর অধীনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিজ দেশের এই কোচ সম্পর্কে অভিজ্ঞতার আরোকে স্যামি নিশ্চিত, সিমন্স সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
স্যামি বলেন, “ফিলকে নিয়ে একটি বিষয় আমি জানি, সে কোনও কিছুই সহজ হতে দেবে না। সেও জিততে চায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) বাংলাদেশেরও নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক্ষুধা, দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ দেখছি, তাতে আমি নিশ্চিত-সিলেটে যে পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হই না কেন, বাংলাদেশে জয় দিয়ে এই টেস্ট চক্র শেষ করতে আমরা প্রস্তুত থাকব। যদিও নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়।”
নিজের দলের ওপর আস্থা থাকলেও বাংলাদেশকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন স্যামি।
তিনি বলেন, “এই সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট জিতে তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিল। তাই এখানে কী ঝুঁকিতে রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সচেতন।”
বর্তমানে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় ২৬.৯২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলমান চক্রে নিজেদের ১৩তম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা।
স্যামি বলেন, “বার্বাডোজে ডব্লিউটিসি চক্র শুরুর সময় আমরা যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলাম, সেগুলো অর্জনে দলের সবাই আগ্রহী।”
আগামী বছরের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আশা কিছুটা ক্ষীণ হয়ে এলেও টেস্ট দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতি হচ্ছে বলে বিশ্বাস করেন স্যামি।
তিনি বলেন, “টেস্ট দল হিসেবে আমাদের অগ্রগতির দিকে তাকালে মনে হয়, দল এখন ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে যে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে, তারা সেই ভূমিকায় মানিয়ে নিচ্ছে।”
“আমাদের বোলিংয়ের ধরনও ছিল ভালো। আমার মনে হয়েছে, আমাদের স্পিনাররা বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে। পাশাপাশি আমাদের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলেছে।”
