নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঝাড়ুদারই এখন ‘পাওয়ার হাউস’: ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন?
১২ আগষ্ট, ২০২৬ ইং। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ সিন্ডিকেটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এখানে পদে পদে চলছে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—বাইরে নামমাত্র নৈশপ্রহরী-কাম-ঝাড়ুদার হলেও অফিসের মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি ও অবৈধ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ এখন মাইন উদ্দিন মানিকের হাতে।
আর এসব দুর্নীতির খবর জানা সত্ত্বেও রহস্যজনক নিরবতা পালন করছেন খোদ সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলম, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
ঝাড়ুদার মানিকের নিয়ন্ত্রণে পুরো দপ্তর:
সাধারণ দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অফিসে প্রবেশের পর থেকে দলিল সম্পাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ঝাড়ুদার মানিকের মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মূল কলকাঠি নাড়েন এই মানিক।
এজলাস কক্ষের পাশের কক্ষে বসে মোহরার মামুন অসাধু দলিল লেখকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করেন, আর এই অবৈধ সিন্ডিকেটের মাঠপর্যায়ের তদারকি করেন ঝাড়ুদার মানিক।
বাসভবনে গোপন লেনদেন ও সাব-রেজিস্ট্রারের ভূমিকা:
অনুসন্ধানে জানা যায়, এজলাস কক্ষের ঠিক উপরের তলায় অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের আবাসিক বাসভবন। সাধারণত সেখানে যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত হলেও ঝাড়ুদার মানিকের প্রবেশাধিকার অবাধ। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক বাসভবনকে কেন্দ্র করে ঝাড়ুদার মানিকের মাধ্যমে পরিচালিত হয় গোপন লেনদেনের বড় একটি অংশ। দিন শেষে সকল অবৈধ অর্থ জমা হয় মোহরার মামুনের কাছে। নিজের নাকের ডগায় এবং ওপরের বাসভবনে এমন সব অপকর্ম ঘটলেও সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের নিরব ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, তার এই রহস্যজনক নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এই চক্রটি ভূমি কর্মকর্তাদের নাম, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছে। ফলে সরকার প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন অসাধু চক্র।

জিম্মি সেবাগ্রহীতা ও ক্ষোভ:
দলিল প্রতি নির্ধারিত ঘুষের টাকা না দিলে সাধারণ মানুষের দলিলে বিভিন্ন অজুহাতে ভুল ধরে আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ দলিল লেখকরা পর্যন্ত মানিক-মামুন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা না পৌঁছালে কোনো ফাইল আলোর মুখ দেখে না।
তদন্ত ও শাস্তির দাবি:
একটি সরকারি কার্যালয়ে একজন ঝাড়ুদার ও মোহরারের এমন বেপরোয়া সিন্ডিকেট রাজত্ব এবং প্রধান কর্মকর্তার নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সাব-রেজিস্ট্রারের রহস্যজনক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
(ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন…)

