ঢাকাবুধবার , ২০ মে ২০২৬
  1. অনিয়ম ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আইটি
  4. আইন ও বিচার বিভাগ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম ও জীবন
  7. কৃষি
  8. খেলা
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাস
  14. প্রশাসন
  15. বানিজ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন বছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ কমেছে ৪০% ‘এসডিজি ও জলবায়ু সহনশীলতা হুমকির মুখে

মোঃ হুমায়ুন কবিরঃ
মে ২০, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে ওয়াশ (WASH) খাতের বরাদ্দ কমার তীব্র বিপর্যয়: এসডিজি ৬ লক্ষ্যমাত্রা ও জলবায়ু সহনশীলতা হুমকির মুখে, ওয়াশ নেটওয়ার্কের উদ্বেগ

আজ ২০ মে ২৬ সকাল ১০ টা ঢাকা রিপোটার্স ইঘনিটিু সাগর রুনি মিলনায়তনেযৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে জাতীয় পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) বরাদ্দে ৪০ শতাংশের বড় পতন; একই সাথে চরম শহরকেন্দ্রিক বৈষম্যের কারণে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটে পড়বে বলে বক্তারা জানান তারা আরও বলেন ওয়াশ খাতে বৈষম্য দূর করতে এখনই একে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (WASH) খাতে সরকারি অর্থায়নের ধারাবাহিক পতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নেটওয়ার্ক অব ওযাশ নেটওয়ার্কস’। আসন্ন অর্থবছরের প্রাক-বাজেট সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই খাতের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়।

ওয়াটারএইড এবং পিপিআরসি (PPRC) এর বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ওয়াশ খাতের বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমেছে। এই পতন বিগত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত অগ্রগতিকে ধূলিসাৎ করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৬ অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সংশ্লিষ্ট পলিসি ব্রিফটি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, এবং মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ নেটওয়ার্ক অব ওযাশ নেটওযার্কস এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রণয়ন করেছেন।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পিপিআরসি (PPRC)-এর চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ সর্বোচ্চ ১৮৭.২৮ বিলিয়ন (১৮,৭২৮ কোটি) টাকায় পৌঁছেছিল। তবে এরপর থেকেই এই খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে তীব্র ও ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ১৪৯.৮১ বিলিয়ন টাকায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে ১১৬.১৭বিলিয়ন টাকা হয় এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর চক্রে তা সর্বনিম্ন ১০৯.০১ বিলিয়ন টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র তিন বছরে এই বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের সাথে জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থার মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ সংকোচনের এক চরম বৈপরীত্যকে প্রকাশ করে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইযাজউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক এমআইসিএস (MICS) ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও প্রকৃত অর্থে ‘নিরাপদ ব্যবস্থাপনার’ আওতাধীন সুপেয় পানি-যা বাড়ির আঙিনায় প্রাপ্য, প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যায় এবং রাসায়নিক ও অণুজীব দূষণমুক্ত-তা পাচ্ছে দেশজুড়ে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। গ্রামীণ এলাকার টিউবওয়েলে আর্সেনিক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এবং কাঠামোগত অর্থায়নের বৈষম্যের কারণে শহরের সুপেয় পানির সুবিধা (৭১ শতাংশ) ও গ্রামের সুবিধার (৪৮ শতাংশ) মধ্যে ২৩ শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় বাজেটের ভৌগোলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বণ্টনের ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের চিত্রও উন্মোচন করা হয়:

চরম শহরকেন্দ্রিক বৈষম্য: মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বরাদ্দ দেওয়া হয় শহর অঞ্চল, পৌরসভা এবং পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)-গুলোকে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, মোট শহরের বরাদ্দের ৪২.৬ শতাংশই (৩,৫১,৭১৮ লাখ টাকা) গ্রাস করছে পুরোনো শহরগুলোর মাত্র চারটি ওয়াসা। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওযাসাই পুরো দেশের মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ (৩,১৪০ কোটি টাকার বেশি) একাই হাতিয়ে নিয়েছে।

আন্তঃনগর বৈষম্য: সিটি কর্পোরেশনগুলোর ভেতরের বাজেট বণ্টনও অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। সিটি কর্পোরেশন তহবিলের ৬২ শতাংশের বেশি টাকা পেয়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর (৩৫ শতাংশ) ও গাজীপুর (২৭.৫৯ শতাংশ)। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট এবং ঢাকা দক্ষিণের মতো পাঁচটি প্রধান শহর কোনো বরাদ্দই পায়নি।

দুর্গম অঞ্চলের চরম অবহেলা: চর, হাওর, উপকূলীয অঞ্চল এবং পাহাড়ি জেলার মতো দেশের প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো জাতীয় ওয়াশ এডিপি তহবিলের মাত্র ১০.২২ শতাংশ পায়। ফলে জাতীয় পর্যায়ে খোলা স্থানে মলত্যাগের হার ২ শতাংশ হলেও, এই প্রান্তিক এলাকাগুলোতে তা এখনো ২ থেকে ৩ শতাংশে রয়ে গেছে।

1 ওয়াশ সেক্টরের ১০টি ভিন্ন প্লাটফর্মের, ৯০০ এর অধিক বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমূহের, একটি সম্মিলিত নেটওয়ার্ক।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (FSM) সংকট: মানববর্জ্যের নিরাপদ অপসারণের হার শহর অঞ্চলে মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর গ্রামীণ বাংলাদেশে তা একেবারেই শূন্য (০ শতাংশ); কারণ এই মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা এফএসএম খাতে অর্থায়নকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে।

আইডব্লিউএ (IWA) থেকে মোহাম্মদ জোবাযের হাসান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের এই ব্যয় কাঠামো জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাকে (NAP ২০২৩-২০৫০) সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপর্যুপরি বন্যার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ল্যাট্রিনগুলো উপচে পড়ে পানির উৎস দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে হাজার হাজার সাবমারসিবল পাম্পের অনিযন্ত্রিত ব্যবহার, অতিরিক্ত সেচকাজ এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের উদ্যোগ না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।

এই সামগ্রিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নেটওয়ার্ক অব ওযাশ নেটওয়ার্কস’ আগামী বাজেটের জন্য জরুরি বিনিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করেছে:

বরাদ্দ হ্রাসের প্রবণতা বন্ধ করা: আঞ্চলিক সমতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওয়াশ খাতের বাজেট বৃদ্ধির হারকে সামগ্রিক এডিপি বৃদ্ধির হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

আঞ্চলিক সমতা অনুযায়ী পুনর্বণ্টন: শহরকেন্দ্রিক মডেল থেকে সরে এসে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, দুর্গম পকেট এবং অবহেলিত প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোকে বাজেটে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সরাসরি ওয়াশ (WASH) ভাতা চালু: জাতীয় ফ্যামিলি কার্ড বা হেলথ কার্ডের মাধ্যমে অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা সরাসরি ওয়াশ ভাতা দিতে হবে। এই সরাসরি আর্থিক সহায়তা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে (বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে) বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক কিনতে, মৌলিক হাইজিন বজায় রাখতে এবং পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর চিকিৎসার পেছনে পকেট থেকে হওয়া অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

স্কুল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে বিনিয়োগ: দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় জেন্ডার-বান্ধব পৃথক টয়লেট এবং ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনসহ সুনির্দিষ্ট ‘ওয়াশ ব্লক’ স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

ঐতিহ্যগত কর্মসূচির রূপান্তর: প্রচলিত গণপূর্ত কর্মসূচি যেমন জাতীয় খাল খনন কর্মসূচিকে স্থানীয়ভাবে পানির জলাধার তৈরির মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও দরিদ্র-বান্ধব ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে রূপান্তর করতে হবে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ পরিশেষে বলেন, কেবল অবকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; স্থানীয সরকার প্রতিষ্ঠান (এলজিআই) যেমন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে কারিগরি সক্ষমতা, ডিজিটাল মনিটরিং টুলস এবং নির্দিষ্ট পরিচালন তহবিল সরবরাহ করতে হবে, যাতে তারা অবকাঠামো তৈরির পরও দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থাগুলো টেকসইভাবে পরিচালনা করতে পারে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন, ইশরাত শবনম (এফএসএম নেটওযার্ক), মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (বিডব্লিউডব্লিউএ), রেবেকা সান ইয়াত (সিইউপি), মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (বাউইন), যোসেফ হালদার (ফানসা), এবং মোঃ ফজলুল হক (ইডব্লিউপি)।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।