ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : গাজায় একটি মানবিক মিশনে যোগ দেওয়ার পর, লিবিয়ায় আটক থাকা তিন ইতালীয় নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তির বিষয়টি বুধবার ইতালি নিশ্চিত করেছে। এই আটককে আয়োজকরা ‘অবৈধ’ বলে তীব্র নিন্দা জানান।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, এই তিন জন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৩০ জন মানবিক মিশন কর্মীর মধ্যে ছিলেন। তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ওষুধ, ভ্রাম্যমাণ ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী বহনকারী একটি স্থলবহরে অংশ নিয়েছিলেন।
গাজায় আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা কর্মীদের প্রতি ইসরাইলের এই আচরণ আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তরা তিউনিসিয়ায় পৌঁছেছেন এবং তাদের সঙ্গে এক তিউনিসীয় নাগরিকও আছেন। তিনিও একইভাবে আটক ছিলেন।
সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ৩০ দিনের ‘অবৈধ আটক’ শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও ছয় জন কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।’
সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, স্বেচ্ছাসেবকদের ‘যথেচ্ছভাবে আটক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ক্রমাগত মানসিক চাপের’ শিকার হতে হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি মুক্তিপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করেছেন। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেনÑ ডোমেনিকো সেন্ট্রোনে, লিওনার্দা আলবেরিজিয়া ও উরুগুয়ে বংশোদ্ভূত ইতালীয় নাগরিক মাতিয়াস আলভারেজ রদ্রিগেজ।
গত মাসে এক ইসরাইলি মন্ত্রী ফ্লোটিলা কর্মীদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করার একটি ভিডিও পোস্ট করার পর, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইল কর্তৃক আটক কর্মীদের সঙ্গে করা আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ওই ফুটেজটি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও স্পেনসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
গত ২০০৭ সাল থেকে অবরোধের মধ্যে থাকা গাজায় সব প্রবেশপথ ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ চলাকালে ওই অঞ্চলে খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এমনকি ইসরাইল মাঝে মাঝে ত্রাণ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

