বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬। মোঃ হুমায়ুন কবিরঃ
আজ ১৩ মে ২০২৬ সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে ইরাক-কুয়েত প্রত্যাগত বাংলাদেশী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানন। এসময় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
প্রত্যাগতদের ১০ দফা দাবী সমূহ
১। জাতিসংঘ ইউ.এন.সি.সি প্রত্যাগতদের দেওয়া ক্ষতিপূরনের টাকা বাংলাদেশে বেসরকারী ১১টি ব্যাংকে ডিপোজিট রেখে ২০০০ সাল পর্যন্ত যে মুনাফা বা সঞ্চয় হয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে গুলশান, বারিধারা, কালাচাদপুর, ভাটারা মৌজায় ১৫১.৫৪ কাঠা জমি ক্রয় করা হয়েছিল। ৭২,০০০ (বাহাত্তর হাজার) প্রত্যাগতদের পক্ষে সমিতির প্রতিনিধিরা ভিজিলেন্স টিমের সভায় উক্ত জায়গার উপর সেখা মূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কিডনি হাসপাতাল ও আইটি সেন্টার নির্মাণ করার প্রস্তাব করিলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। আজও পর্যন্ত কিডনি হাসপাতাল নির্মাণ হয়নাই বিধায় জমি ফেরত দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
২। ১৯৯৭ সাল হইতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ ইউ.এন.সি.সি ক্ষতিপূরণ কমিশন ৭২,০০০ (বাহাত্তর হাজার) প্রত্যাগতদের যে অর্থ দিয়েছিল তা জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো, ৮৯/২ কাকরাইল অফিস থেকে প্রত্যাগতদের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিতরণ চলাকালীন সময় কর্তৃপক্ষ সকল দাবীদার থেকে অরিজিনাল পাসপোর্ট, আইডি কার্ড, আউটপাশ ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র কর্তৃপক্ষ রেখে দেয়। যাহা পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হবে ঘোষণা থাকে, উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ফেরত দেয় নাই। আমরা পাসপোর্টোর পরিবর্তে বি.এম.ই.টি মহাপরিচালকের বরাবর প্রত্যাগতদের নামে আইডি কার্ড প্রদানের জন্য আবেদন করেছি। আমরা বি.এম.ই.টি মহাপরিচালকের স্বাক্ষর সম্মিলিত আইডি কার্ড চাই।
৩। জাতিসংঘ ক্ষতিপুরণ কমিশন যাচাই-বাচাই করে সঠিক দাবিদার সনাক্ত করে বাংলাদেশের প্রত্যাগতদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে। ১৯৯৭ সাল হইতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টাকা বিলি বণ্টন হয় জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো হইতে। কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ৩৩৪ জন দাবিদারের টাকা জাতিসংঘে ফেরত দেওয়া হয়েছে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আমরা জানতে চাই ৩৩৪ জনের টাকা জাতিসংঘে ফেরত দিয়েছে কিনা বা ফেরত নিয়েছে কিনা এর সঠিক তখ্য লিখিত বা পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হোক।
৪। ৪৪৪ জন যুদ্ধ বন্ধী প্রত্যাগত দাবিদারের ক্ষতিপূরণের টাকা জাতিসংঘ ক্ষতিপুরণ কমিশন দিয়েছে কিনা? না দিলে কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের ক্ষতিপূরণ কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে আনা এবং বিতরণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া ৪৪৪ জনের পূর্ণঙ্গ নামের তালিকা সমিতির কাছে দেওয়া হোক।
৫। জাতিসংঘ ইউ.এন.সি.সি কর্তৃক ঘোষনা মোতাবেক এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালকের অনুমতি/অনুমোদন সাপেক্ষে প্রায় ২০০০ প্রত্যাগত দাবীদার লেইটক্লেইম হিসেবে সি ফরম পূরণ করে ক্ষতিপূরণ দাবী করে। উক্ত দাবীকৃত আবেদন পত্র জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যারোতে জমা করা হয়। কিন্তু আজও পর্যন্ত এই দাবীকৃত দাবীদারের আবেদন জাতিসংঘে প্রেরণ করা হয়েছে কিনা যা জাতিসংম দাবীর পক্ষে অর্থ প্রদান করেছে কিনা প্রত্যাগতরা তা জানতে চাই।
৬। ইরাক এবং কুয়েতের বিভিন্ন ব্যাংকে রেখে আসা টাকা ফেরত আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করেছে কিনা বা ফেরত আনতে দাবীদারকে কি কি পদ্ধতি বা নিয়মে আনা যায় ডাহা পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করার এবং সমিতিকে পত্র দিয়ে জানানোর জোর দাবী জানাচ্ছি।
৭। বি.সি.এল কোম্পানী রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্স নাম্বার- ৫৬, এই কোম্পানী ও টেকনোকোন কোম্পানী ইরাকে বাংলাদেশি প্রায় ২৫০০ শ্রমিক নিয়ে কাজ করতেন। ১৯৯০ সালে ইরাক-কুয়েত যুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশি শ্রমিকরা খালি হতে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়। কোম্পানী জাতিসংঘ ক্ষতিপূরণ কমিশনের নিকট শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ এবং কোম্পানীর ক্ষতি দেখিয়ে টাকা দাবী করে। ক্ষতিপূরণ কমিশন কোম্পানীকে বি.এম.ই.টির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ এর টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। যাহা পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল এবং বি.এম.ই.টিতে রেকর্ড আছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত শ্রমিকদের টাকা কোম্পানী পরিশোধ করে নাই। বিষয়টি বি.এম.ই.টি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জরুরি ভাবে শ্রমিকদের টাকা পেতে পারে এই বেপারে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়া জোর দাবী জানাচ্ছি।
৮। কুয়েত সরকার কর্তৃক ঘোষণা মোতাবেক কুয়েতে কর্মরত যে সকল শ্রকিকেরা যুদ্ধের সময় দেশে ফেরত এসেছিল তাদেরকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর ফেরত নিবে এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ৯ মাস যুদ্ধ শেষে কুয়েত সরকার তার দেশ স্বাধীন হয়, পরবর্তীতে কত শ্রমিক কুয়েত ফেরত নিয়েছে আজও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা এখনও হাজার হাজার কুয়েত প্রত্যাগত শ্রমিক বাংলাদেশে অবস্থান করছি। কুয়েতের আমির এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন যুদ্ধ চলাকালীন সময় আমাদের ৯ মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে আজও আমরা পাইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কুয়েত সরকারের সাথে এই বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছিল কিনা জানতে চাই।
৯। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধে ফেরত আসা হাজার হাজার প্রত্যাগত ইরাকি এবং কুয়েতি দিনার সাথে এনেছিলেন। তৎকালীন সরকার এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ঘোষণা মোতাবেক সঙ্গে আনা দিনার গুলি সোনালী ব্যাংক ওয়েজ আনার্স ৫টি শাখায় জমা করেছিলেন। আজও পর্যন্ত সে দিনারের বিনিময় মূল্য যা টাকা দাবীদারদের দেওয়া হয় নাই। অনতিবিলম্বে দিনারের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
১০। ১৫১.৫৪ কাঠা জমি ক্রয় এবং উক্ত জমির উপর উন্নতমানের কিডনি হাসপাতাল ও আইটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে আন্তঃ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে একটি টিম গঠন করা হয়। উক্ত ভিজিলেন্স টিমে ৭২,০০০ প্রত্যাগতদের পক্ষে সমিতির ৩ জন প্রতিনিধিত্ব করতেন। ভিজিলেন্স টিমের প্রতিটি মিটিংয়ের সমিতির প্রতিনিধিদের চিঠির মাধ্যমে উপস্থিত থাকার দাওয়াত দিতেন। জমি ক্রয় এবং হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে প্রত্যাগতদের পক্ষে মতামত নিতেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত খায় ২০০টি সভা হয়েছে। প্রতিটি সভায় সমিতিকে সম্পৃক্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত উপরে উল্লেখিত দাবী দাওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকরণ সভায় সমিতিকে পত্র দেওয়া এবং অবহিত করা হয় না। সমিতির ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিকে উপরে উল্লেখিত বিষয়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
