ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রকৌশল খাতে আরো বেশি সুইডিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকা বিভাগের পরিচালক ও প্রধান ড্যানিয়েল উলভেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সুইডেনকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে সুইডেনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসাও করেন তিনি।
তিনি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি (সৃজনশীল অর্থনীতি) প্রসারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা বজায় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাখা বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবাধিকার, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বহুমুখী ও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়াতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন তারা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রকৌশল খাতকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে এসব খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন।
ড্যানিয়েল উলভেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান। একই সাথে বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাসহ রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য সুইডেনের আরো জোরালো সমর্থন কামনা করেছেন।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।