বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত:
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
আজ ১৯ জুন ২০২৬ বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬, উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস পরিবেশ ক্লাব এর যৌথ আয়োজনে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পরিবেশ কার্নিভাল ২০২৬”।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কার্নিভালে শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পরিচালক গাওস পিয়ারী এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক রেহানা পারভীন।
ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো একক খাতের দায়িত্ব নয়; এটি উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগ, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এবং তরণদের অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশ সচেতনতা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হলে একটি সহনশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।
গাউস পিয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষের সুস্থতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য একে অপরের পরিপূরক। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ রক্ষাকে কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনযাপন, নীতিনির্ধারণ ও সামাজিক চর্চার অংশে পরিণত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
রেহানা পারভীন বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে পরিবেশগত দায়বদ্ধতার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
কার্নিভালে পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বিভিন্ন উপস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নগরায়ন, বায়ুদূষণ , জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে -
• শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
• নগর পরিকল্পনায় সবুজ এলাকা ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
• প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
• নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো।
• তরুণদের অংশগ্রহণে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
• জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বা করা।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।