‘SOS চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ’ পরিদর্শন করে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি শিশুদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও মানবিক পরিবেশে মুগ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

“পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ‘SOS চিলড্রেন্স ভিলেজে’ পৌঁছাতেই ছোট ছোট একঝাঁক নিস্পাপ শিশু হাসিমাখা মুখে আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাল। ওদের কারো মুখে লাজুক হাসি, কারো চোখে কৌতূহল কিনবা দুষ্টুমির আভাস। ওদের প্রতিটি কথায়,-গানে, আবৃত্তিতে, নৃত্যে- নিষ্পাপ কোমল প্রাণচাঞ্চল্য, স্বতঃস্ফূর্ততা ও উচ্ছ্বাস প্রতিটি মুহূর্তে যেন হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছিলো।
বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে ‘SOS চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ’- এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য পারিবারিক আদরের ছায়া রচনা করে চলেছে। শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও নানামুখী সহায়তা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ৬টি গ্রামকে ঘিরে বাংলাদেশে ৫৫ বছরের এই নিরন্তর যাত্রায় সংগঠনটি ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি জীবনে জ্বালিয়েছে আলোর প্রদীপ।
সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎ মিলল অসাধারণ সব শিশুর সাথে, পরিচয় হলো তাদের পালক মায়েদের সাথে এবং জানা হলো SOS-এর সাফল্যের জীবন্ত কিছু গল্পের। ঢাকার কোলাহলের বুকে শিশুদের জন্য এমন একটি শান্ত, নিরাপদ আশ্রয়ের দেখা পেয়ে মন অজান্তেই আবেগে ভরে উঠল। যে শিশুরা একদিন নিজের পরিবার হারিয়ে পথে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখানে পেয়েছে একটি পূর্ণ পৃথিবী। যে পৃথিবী তাদের ভালোবাসে, আগলে রাখে, পথ দেখায় এবং ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করে।
মানুষের সাথে মানুষের আসল বন্ধন শুধুমাত্র রক্তের বন্ধনেই সীমাবদ্ধ থাকেনা- বরং ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতায়ও জন্ম নেয় গভীর আত্মীয়তা। এই বন্ধনের কোন বিনিময় হয়না, তবুও সৃষ্টি হয় মানবিক স্বার্থকতা ও ঐশ্বরিক তৃপ্তি।
আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই- এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে SOS চিলড্রেন্স ভিলেজের এই ৫৫ বছরের পথচলা সত্যিই অসাধারণ এবং অনুকরণীয়। তাই, আজকের বিকেলটা নিয়ে গেলাম মনের ভেতরে, অনেকটা সেই ছোট্ট হাতের ফুলগুলোর মতোই…।”