৫ দিন ধরে মিরপুর হাসপাতালে বিলকিস শশুরবাড়ীর লোকজন পলাতক,অসহায় হয়ে হাসপাতালে

প্রকাশিত: ২:২০ PM, নভেম্বর ২৪, ২০১৯
৫ দিন ধরে মিরপুর হাসপাতালে বিলকিস

মিরপুর সংবাদদাতা: বর রাজিব থাকতেন মালেশিয়া, কনে বিলকিস থাকতেন দুবাই। মোবাইল ফোনে আলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক হয় তাদের। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে। রাজিব চলে আসে নিজ এলাকায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ গ্রামে। বাড়ী এসে পারিবারিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্তে বিলকিসও চলে আসে কাকিলাদহে। ৩-৪ মাস আগে বিয়ে হয় দুজনের। এখন বিলকিস হাসপাতালে। স্বামী রাজিব, শশুর আনারুল ও শাশুড়ি আশানুর খাতুনের মারধরে সে এখন মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।

গত বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে ঐ গৃহবধু বিলকিসকে নির্যাতন করে তার শশুরবাড়ীর লোকজন। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসতাপালে ভর্তি করে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বিলকিসের শশুর বাড়ীর লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী কোহিনুর খাতুন জানান, ৫ বছর আগে রাজিবের সাথে বিয়ে হয় রোজিনা খাতুন নামের এক মেয়ের। বিয়ের এক মাসের মাথায় রাজিব মালেশিয়ায় যায় শ্রমিকের কাজ করতে। সেখানে গিয়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে বিয়ে করে দুবাই থাকা তিন সন্তানের জননী বিলকিসকে। আজ থেকে ৩-৪ মাস আগে প্রথমে রাজিব পরে বিলকিস কাকিলাদহ গ্রামে চলে আসে। এসময় বিলকিস প্রায় ৮/১০ লক্ষ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আসে। কিন্তু রাজিবের প্রথম স্ত্রী রোজিনা বিলকিসকে মেনে নেয়নি। রোজিনা সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে রাজিবের কাছে তালাক চায়। পরে গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মাধ্যমে তালাক নেয় রোজিনা। এরই মধ্যে মাঠে জমি কিনে ও বাড়ী করে বিলকিসের আনা টাকা গুলো প্রায় শেষ করে ফেলে রাজিব ও তার পরিবার। বিলকিসের পরিবারে নেমে আসে কলোহ। স্বামী, শশুর ও শাশুড়ি একসাথে মিলে আজ বুধবার সকালে বেধরক মারপিট করে বিলকিসকে। পরে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশি জানায়, পূনরায় টাকা আনা এবং রাজিবকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রায় প্রতিনিয়ত বিলকিসের উপরে নির্যাতন করে থাকে। আজ সকালে বেধর মারপিট করে বিলকিসের শশুর, শাশুড়ি ও স্বামী। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রেমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এসেছেন রাজিব।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিলকিস খাতুন বলেন, আমাকে তালাক নেওয়ার জন্য প্রায়ই আমার শশুর বাড়ীর লোকজন মারধর করে। বিয়ের সময় আমি ৮-১০ লক্ষ টাকা দিয়েছি তাদের। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। আমি আগে জানতাম না রাজিবের বৌ ছিলো। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে আমার দেওয়া সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে। আজকে আমাকে বাড়ীর মধ্যে বেধরক মারপিট করে। আমি নির্যাতন সইতে না পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি। পরে বাড়ীর সামনে রাস্তায় ফেলে আমাকে শারিরিক নির্যাতন করে। আমি তাদের বিচার চাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, সকালে তার শশুর বাড়ীর লোকজন মারধর করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, এমন কোন অভিযোগ আসেনি। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।