সিন্ডিকেট করে চালের দাম বৃদ্ধি, সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

স্বর্ণা-৫ জাতের মোটা চাল বস্তাপ্রতি ১৫০০ টাকা বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছেন ১৮০০ টাকায়, আর জিরা মিনিকেট জাতের চিকন চাল গত সপ্তাহে বিক্রি করেছেন ১৮০০ টাকায় এখন বিক্রি করছেন ২৬০০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারে মোটা চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা কেজি, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা। চিকন চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা থেকে ৬০ টাকা।

রওশন জাহান, নওগাঁ : করোনার অজুহাতে নওগাঁর মহাদেবপুরের বড় ৪ চালকলের মালিক সিন্ডিকেট করে কোন কারণ ছাড়াই চালের দাম ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ৫০০ টাকা করে বাড়িয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৬ টাকা আর চিকন চাল কেজিপ্রতি ১২ টাকা বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ওই মিল মালিকেরা স্বর্ণা-৫ জাতের মোটা চাল বস্তাপ্রতি ১৫০০ টাকা বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছেন ১৮০০ টাকায়, আর জিরা মিনিকেট জাতের চিকন চাল গত সপ্তাহে বিক্রি করেছেন ১৮০০ টাকায় এখন বিক্রি করছেন ২৬০০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারে মোটা চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা কেজি, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা। চিকন চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা থেকে ৬০ টাকা।

হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের। তারা তাদের সামান্য রোজগারের টাকায় বেশী দামে চাল কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন।

কিন্তু কেন এই চালের দাম বাড়ানো হলো, এর কোন সদুত্তর মিল মালিকেরা দিতে পারেননি। কেউ কেউ বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে তাই। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, তারা আগেই কম দামে ধান কিনে মজুদ করেছে। সেই ধান ভেঙ্গে চাল করেই বিক্রি করছে। সিন্ডিকেট করে তারাই ইচ্ছামত দামে ধান কিনেছে। আবার এখন চালের দাম বাড়ানোর জন্য ধানের বাজার বাড়িয়ে দিয়েছে।

তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে মারাত্মক তথ্য। মিল মালিকেরা ষড়যন্ত্র করে একেক হাটে একেক জন ধান কেনেন। ফলে হাটে ধান কেনার জন্য ক্রেতাদের নিজেদের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা করতে হয়না। এই অসাধূ নিকুইজিশনের বলি হন সাধারণ কৃষক। প্রতি হাটে সিন্ডিকেটের ক্রেতারা তাদের ইচ্ছামতই ধানের দাম হাঁকেন। সাধারণ চাষীরা তাদের বেঁধে দেয়া দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

এই মূহুর্তে ধানের দাম কিছুটা বেশী নির্ধারণ করলেও গরীব চাষীদের ঘরে এখন আর কোন ধান নেই। মৌসুমের শুরুতেই তারা ধান বিক্রি করে ধার দেন, দাদন, লোন পরিশোধ করেছেন। এখন দাম বেশী দিতে চাইলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন তেমন ধান কিনছেনা। চালের দাম বাড়ানোর জন্য এটা একটা অজুহাত মাত্র।

উপজেলার দক্ষিণ হোসেনপুরে অবস্থিত শিউলী অটোমেটিক চাউল কলের মালিক ও উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো: আব্দুল জব্বার জানান, ধানের দাম বাড়ায় চালের দাম বাড়াতে হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ী দেওয়ান আলী জানান, পাইকারীতে বেশী দাম নেয়ায় তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

অভিজ্ঞরা অভিযোগ করেন যে, মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই নির্বিঘেœ অবৈধভাবে চালের দাম বাড়াচ্ছে। ফলে তাদের মজুদদারীর বিরুদ্ধে অথবা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেউ।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন জানান, দাম বেশী নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।