সমস্যা পীঁডিত জনপদের নাম মেহেরপুর

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

মেহেরপুর প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাজধানী মুজিবনগর। মেহেরপুর জেলারই অংশ। অথচ এই জেলা এখন ও একটি অবহেলিত জনপদ। বিভিন্ন দিক দিয়ে এক সময়ের অগ্রণী মেহেরপুর আজও দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে পিছিয়ে আছে ।

 

 

মেহেরপুর এক প্রাচীন জনপদ। ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয় মেহেরপুর মহকুমা । ১৮৬৯ সালে মেহেরপুর পৌরসভা, ১৮৯২ সালে চুয়াডাঙ্গা মহকুমাকে মেহেরপুর মহকুমার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮৯৭ সালে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর থেকে বিচ্ছিন্ন পুনরায় মহকুমার মর্যাদা লাভ করে । মেহেরপুরের ৪টি থানার মধ্যে করিমপুর ও তেহট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে চলে যায় এবং ছয়শ বর্গ মাইলের মাত্র দুইশ ৭৭ বর্গমাইল মেহেরপুরের মধ্যে পড়ে। ভারত ভাগের পর মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গার সাথে যুক্ত হয় এবং ১৯৪৯ সালে মেহেরপুর পুনরায় মহকুমার মর্যাদা ফিরে পায়।

 

 

ভৈরব নদের পূর্বতীরের এ প্রাচীর শহর ১৯৮৪ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি জেলা হয়। মেহেরপর সদর থানার বর্তমান আয়তন ১৪৪ বর্গমাইল। জেলার অপর এক থানা গাংনীর আয়তন ১৩৩ বর্গমাইল । দুই থানার মোট ইউনিয়ন ১৮টি। মেহেরপুর সদর থানাকে দু-ভাগ করে মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর কে থানায় পরিণত করা হয়। জাতীয় সংসদে মেহেরপুরের আসন দুইটি । জেলায় শিক্ষার হার ৩২%। অর্থকরী ফসল ধান, গম, পাট,তামাক,মরিচ। শীতকালীন সবজি প্রথম বাজারে দেয় মেহেরপুরের চাষীরা । এক সময়ের অগ্রনী মেহেরপুরে আজও গড়ে ওঠেনি কোন শিল্প-কারখানা।-মেহেরপুরের বিভিন্ন সড়কের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হয়নি। প্রধান সড়ক ২টির উন্নয়ন হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মান করা হয়নি ।

 

 

গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে মুজিবনগর আম্রকাননে ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধের পার্শ্বে শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষনে মেহেরপুরে রেল লাইন করার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এর পর পরই রেল বিভাগের উদ্ধতন কর্মকর্তাগন মেহেরপুরে আসে। রেল লাইনের জন্য জরিপ সম্পর্ন করেন। প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রæতিতে স্বল্প সময়ে মেহেরপুরে রেলপথ হওয়ার কথা থাকলেও স্থবির হয়ে কার্যক্রম। রেলপথ করার আর কোন কথা শোনা যাচ্ছেনা। মেহেরপুর বাসীর প্রানের দাবি রেলপথ কবে নাগাদ হবে জানতে চাই নব নিযুক্ত রেল মন্ত্রীর কাছে।

 

 

মুজিবনগরকে ঘিরে অতীরের অনেক মন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধান আশ্বাস দিলেও মুলত বহু আকাংক্ষিত উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। রাষ্টীয় সিদ্ধান্তে মুজিবনগর কমপ্লেক্স নির্মান হয়েছে। কিন্ত মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণ সুষ্টভাবে হয়না।

 

 

জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যালয় পাকা ভবন হয়নি। জেলা বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় কাজ শুরু হলেও নির্মান কাজ চলছে মন্থর গতিতে । জেলায় সরকারি পর্যায়ে কোন হাউজিং এলাকা গড়ে ওঠেনি বলে রয়েছে আবাসন সমস্যা।

 

 

মেহেরপুর জেলার কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নের জন্য ভৈরব নদ পূনঃখনন হলেও রক্ষানাবেক্ষণ একান্ত প্রয়োজন । ৭৫ হাজার একর জমির ফসল উৎপাদনে সহায়ক এ নদ খরা মৌসুমে মৃত থাকে । কৃষিঋন ব্যবস্থা রয়েছে, নেই সহজতর পদ্ধতি। প্রয়োজন শিল্প নগরীর মেহেরপুরের জনজীবনকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মুল ধারার সঙ্গে এক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রতিটি সরকারকে আবেদন জানিয়ে কোন ফল হয়নি মেহেরপুরবাসী।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।