রোগের নাম চুলকানি, মানছি, কিন্তু মলমের নাম কী?

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০
ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে জালিয়াতি

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক: কৈশরে পালিয়ে সিনেমা দেখার একটা গল্প দিয়েই শুরু করি। গ্রাম থেকে সুন্দরী মেয়েদের ধরে এনে জলসাঘরে বন্দী করলো জমিদারের লোকজন। রাতে তাদের ঝলমলে পোষাক পরিয়ে দেওয়া হলো। সিংহাসন থেকে উঠে এলো নেশাগ্রস্থ জমিদার। সাপের মতো কুচকুচে কালো চাবুক সপাংকরে ঐসব মেয়েদের শরীরে বসিয়ে দিয়ে চিৎকার করে উঠলো, নাচো! বাজনার তালে চলছে গান।

 

চলছেই। তাল নেই। নাচ, ছন্দ, লয় কিচ্ছু নেই। তাতে অনিচ্ছুক নারীদের কান্নার শব্দে যোগ হয়েছে করুণ সুর। ১ম দিনের দৃশ্য এটা। ২য়, ৩য় দিনের দৃশ্যে মেয়েদের কেউ পালিয়ে গেল, কেউ আত্মহত্যা করলো। কিন্তু ৪র্থ দিনের দৃশ্যে দেখা গেল কেউ কেউ অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন ছান্দিক মন মাতানো প্রফেশনাল নৃত্যে! এবার জমিদার খুশি। খুশি সাঙ্গপাঙ্গরাও। ওয়াও!

 

 

‘নাচো’ বলে জমিদারকে আর চাবুক ছুঁড়ে চিৎকার করা লাগে না। জমিদারের গন্ধ পেলেই এরা সুরা সাজিয়ে নাচের পোষাক পরে নেয়। মুখে মেকাপ, গায়ে সুবাস, পায়ে আলতা ও ঝুমকো। যেখানো যা লাগে। কৈশরে পালিয়ে সিনেমা দেখার বয়সে এসব নাচনেওয়ালাদের নাম জানতাম না। পরে জেনেছি এদের বলে বাইজি। বাইজিদের কেউ কেউ জমিদারের খুবই বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। উপ-পত্নীর মর্যাদাও জুটে কারো। কখনো আবার সেটি স্ব-পত্নীকেও ছাড়িয়ে যায়। আমার আজকের গল্পটি কিন্তু ভিন্ন। কুষ্টিয়ায় ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি বিক্রি চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় পত্র-পত্রিকা, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি চাউর হয়ে উঠেছে।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, একটি জালিয়াত চক্র কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। তবে ওই জমির প্রকৃত মালিক শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ ও তার বোনেরা। জালিয়াত চক্রটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে রাতারাতি অন্যের জমির মালকি বনে যান। চক্রটি এখানেই থেমে থাকেনি, তারা শহরের এনএস রোডে আব্দুল ওয়াদুদের দোতলা বাড়িসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তিও একই কৌশলে বিক্রির চেষ্টা করছিল। চক্রটি শহরের মজমপুর, চৌড়হাস ও বাহাদুরখালী মৌজার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা করে। অন্যের জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রবিবার রাতে শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। যার নেতৃত্বে এত বড় দূর্ণীতি, অনিয়ম, পুকুর চুরি তিনি কিন্তু এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি জমিদারের উপ-পত্নী থেকে স্বপত্নীতে রুপান্তরিত হয়েছেন কি-না? মলমের নামটি কুষ্টিয়াবাসী জানতে চায়!

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।