মেহেরপুরে লকডাউনে খাদ্যাভাবে হনুমান

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

দ্য বিডি রিপোর্ট প্রতিবেদক: মেহেরপুর শহরের মার্কাস মসজিদ পাড়ায় মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল আমিনের বাড়ি। তার স্ত্রী হোসেনে আরা বীথি আশরাফুল হাফিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। মঙ্গলবার সকাল প্রায় আটটা। সকালের নাস্তা হিসেবে রুটি তৈরী করছিলেন।

এসময় তাদের বাড়িতে একদল হনুমান আসে খাদ্যাভাবে। বীথি প্রথমে কয়েকটি সবজি দেয়। কিন্তু সবজি নয়। তার তখন রুটি খাওয়ার ইচ্ছে। সামনের পায়ের আঙুল তুলে ইশারায় বুঝিয়ে দেয় সে। এরপর আট জনের হনুমান দলকে রুটি দেয়া হলে মহানন্দে খেতে থাকে। হনুমানের আর্জির মুখে তাদের নতুন করে ময়দা মেখে রুটি বানিয়ে সবগুলো হনুমানকে পেটপুরে রুটি খাওয়ান। হনুমানের এধরনের আর্জি দেখে রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেছে বীথি ও তার পরিবার। তারা মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে গিয়ে দেখা যায় ততক্ষনে বাড়ির প্রাচিরে খেলায় মত্ত হয়ে পড়েছে হনুমানেরা। বীথির মতে এই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সব দোকান বন্ধ বলেই ওরা এবাড়ি সে বাড়িতে ছুটে বেড়াচ্ছে খাবারের জন্য।


আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন- করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের মতো মেহেরপুর জেলায় চলছে লকডাউন। শ্রমজীবীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাদ্যসামগ্রি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হনুমানদের কেউ খাবার দেবার কথা ভাবছে না। হোটেল রেঁস্তোরা, বিভিন্ন দোকানে তারা খাবার পেত। লকডাউনে সব বন্ধর কারণে খাদ্য সংকট শ’দুয়েক হনুমান সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছে। খাদ্যের সন্ধানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মত্যুর ঘটনাও ঘটছে।


হিন্দু শাস্ত্রমতে, ভগবান শ্রীরামভক্ত কালোমুখো হনুমান বিশাল সাগর পাড়ি দিয়ে রাবণের রাজপ্রাসাদ থেকে উদ্ধার করেছিলো রামপত্নী দেবী সিতাকে। সেই কালোমুখো হনুমান এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। অথচ এক সময় এখানকার বন-বাদাড়ে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতো হনুমানেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত বন উজাড় হওয়ায় খাদ্য ও আশ্রয়স্থলের সংকটের মুখে এ প্রাণী।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।