মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স  প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর নানা সমস্যা

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

ঐতিহাসিক মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স প্রকল্প ১০০ ভাগ নির্মান কাজ আজও সম্পূর্ন হয়নি । ভৌত অবকাঠামোর নানা সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়া স্বাধীনতার সূতিকাগার মেহেরপুর জেলার মুজিব নগর বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী হলেও রাষ্ট্রিয়ভাবে ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের মর্যাদা পাইনি ।

 

এ দিন সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয়না। ছুটি না থাকায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে মুজিবনগর দিবসে মুজিবনগরের অনুষ্ঠানে যোগদান করাতে পারে না।

 

 

১৯৭১সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যান্ত ২০ বছর মুজিবনগর ছিল অবহেলিত। ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকার ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করে মুজিবনগর সৌতিসৌধ, রেস্ট হাউজ, তোরন এবং মুজিবনগর পাঠাগার ও ক্লাব । আওয়ামীলীগ সরকার মুজিবনগরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে ৩০ একর জমির উপর শুরু করে মুজিবনগর কমপে¬ক্স স্থাপনের কাজ। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নকশা তৈরিতে শম্ভকগতি, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারনে আজও শেষ হয়নি মুজিবনগরকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ ।

 

 

মুজিবনগর কমপে¬ক্স স্থাপন প্রকল্পের শুরুটা ছিল নানা সমস্যা জর্জরিত। প্রকল্পের অন্যতম ক্রটি ছিল নকশা ছাড়া একনেকে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া । বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় নকশা তৈরির কাজ করে। বাংলাদেশের মানচিত্রের কাজ ২০০৫ সালের শেষের দিকে শুরু হয়ে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১০ সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। মুজিবনগর কমপ্লেক্সের স্থাপন প্রকল্পের কাজে স্থানীয় সরকার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ গৃহায়ন ও গনপূর্ত, পরিবেশ ও বন সমাজ কল্যাণ, ধর্ম, স্বরাষ্ট্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ১১টি মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ দিলেও মুল তত্ত¡াবধানে রয়েছে গনপূর্ত মন্ত্রণালয়। মুল স্মৃতিসৌধ অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকে, যেন দেখার কেউ নেই।

 

 

এছাড়া মুজিবনগর কমপ্লেক্সের এরিয়ায় উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান , ননগেজেটেড কোয়াটার ,ডরমেটরি ভবন , অভান্তরিন সডক, সংযোগ সডক, শিশু পরিবার ,ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জ, মসজিদ, ডাকঘর নির্মানের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সূত্র মতে ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের পিপি কাটছাট করে মুল নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্রে টান্সমিশন সেন্টারের সামনে স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র পাথরের অথবা টাইলসের ফলকে স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশ পথ থেকে কক্ষের অভান্তরের বিপরীত দিকে দৃর্শমান তৎকালীন প্রবাসী সরকারের সকল সদস্যের ছবি, বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বই বিক্রি কেন্দ্র ও ৫ হাজার গ্রন্থ সংরক্ষনের জন্য গ্রন্থাগার “বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর” ¯েø¬াগান সংবলিত স্তম্ভ এবং স্তম্ভের উর্দ্ধে উচিয়ে ধরা রাইফেলের নলে বাধা স্বাধীন বাংলার পতাকার ভাস্কর্য স্থাপন করার হয়। এই ভাস্কর্য ৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে উপস্থিত সকল ছাত্র নেতার প্রতিচ্ছবি । মুজিবনগর কমপে¬ক্সের ভেতরে জাতীয় পাখি দোয়েল, জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় মাছ ইলিশ, জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় ফল কাঠালের ভাস্কর্য স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে । মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রি জনাব ফরহাদ হোসেনের একান্ত প্রচেষ্ঠায় এবং বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় মুজিবনগর কমপ্লেক্স প্রকল্প প্রাস্তবায়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

পাঠকের মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।