মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্যানেল প্রত্যাশী কুষ্টিয়া জেলার বখতিয়ারের খোলা চিঠি

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনি গণতন্ত্রের মানস কন্যা ও ১৮ কোটি বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল।আপনার হাত ধরে ও আপনার দেখানো পথ অনুসরন করে বাঙালি জাতি উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে।মাননীয় নেত্রী,আমরা আজ আপনার শিক্ষিত বেকার সন্তান।তাই আপনার সমীপে তুলে ধরছি আমাদের কিছু অসহায় জীবনযাপন ও বেকারত্বের অভিশাপের কথা।

প্রিয় নেত্রী,আপনার পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি,বাঙালি জাতির জনক,বাঙালির ঐতিহ্য,স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে দেশ স্বাধীনের পরে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই হতে ১৯৭৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩ বছরে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করেন।সুতরাং আমরাও চাই আপনি তার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে মুজিব বর্ষের উপহার স্বরূপ আমাদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন।আপনি হয়তো জানেন যে,প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম খুবই ধীর গতি সম্পন্ন।এবং মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘ কয়েকবছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বন্ধ থাকে।এবং তৎসময়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সেশনজট থাকে এবং কয়েকবছর পরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় আমাদের প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকুরী প্রার্থীর বয়স শেষ।অনেকেই আর সরকারি চাকুরির জন্য আবেদন করতে পারবে না।শিক্ষিত হয়েও সমাজের বোঝা হয়ে তাদের বেঁচে থাকতে হবে।

 

মাননীয় নেত্রী,২০১৮ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের অনুকূলে ২৪ লাখ চাকুরী প্রার্থী আবেদন করে।এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৫ হাজারের মধ্যে অধিদপ্তর ১৮১৪৭ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে এবং তাদেরকে নিয়োগ দেয়।এই ১৮১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় ১০৬ জনের মধ্যে ০৯ জন যোগদান করেনি।এভাবে সমস্ত জেলাতেই অনেকেই এরমধ্যে উচ্চপর্যায়ের চাকরিতে যোগদান করার কারনে অনেক পদ শূন্য রয়ে গেছে।কিছুদিন আগেও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ২৮,৮৩২ এবং বর্তমানে প্রায় ৬০,০০০ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে এবং যা প্রতিনিয়ত শিক্ষক অবসর সহ বিভিন্ন কারনে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও আপনি কয়েকদিন আগে কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিকে ২ বছর মেয়াদী নতুন ক্লাস অনুমোদন দিয়েছেন, এখানেও কিছু শিক্ষক শূন্যপদ পরিলক্ষিত হবে। বাংলাদেশের রেকর্ড করা ইতিহাস ২০১৮ সালেই কেবল আমরা ২৪ লক্ষ প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে মাত্র ৫৫ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছি,যা শতকরা ২.৩%। যখন ২৪ লক্ষ প্রার্থীর সাথে লড়াই করে টিকে থেকেও চূড়ান্তভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হই তখন সমাজ আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন চোখে দেখে।তাই বাকি ৩৭ হাজার প্যানেল প্রত্যাশিদের প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্তি দিন।উল্লেখ্য যে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তের মহাপরিচালক মহোদয় বলেছেন প্রাথমিকের মৌখিক পরীক্ষায় কোন ফেল নেই,উপস্থিত হলে ১৪/১৫ পাওয়া যায়। অর্থ্যাৎ আমরা সবাই লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাশ হওয়া স্বত্তেও নিয়োগ বঞ্চিত। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সংসদ টিভির মাধ্যমে রেকর্ড করা ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে এবং এই শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো অনলাইন ক্লাস সিস্টেম চালু নেই।সংসদ টিভির রেকর্ডকৃত ক্লাস গ্রামে অধ্যায়নরত অনেক শিক্ষার্থীরাই দেখতে পারছে না কারণ তাদের প্রায় অনেকের বাড়িতে টিভি নাই। তাদের এই সময়ে পড়াশুনায় বিশাল ঘাটতি পরে যায়।তাই ওই সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া দরকার।করোনার মধ্যে মানুষ বাঁচাতে ডাক্তার ও নার্স যেমন অত্যন্ত জরুরি ঠিক তেমনি শিক্ষিত জাতি গড়তে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ অতীব জরুরী।গত বছর আমরা কয়েকটি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে চর ও হাওড় অঞ্চলে বসবাসরত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাভাবিক অবস্থা থাকাকালীন সময়ে তারা ঠিকমতো তাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পারছিলো না কারন কোন কোন বিদ্যালয় একজন ও দুইজন শিক্ষক দ্বারা পুরো বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে।এছাড়াও দেশের প্রায় সমস্ত বিদ্যালয়েই ১/২ জন করে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান রয়েছে।করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে দেশকে এবং দেশের শিক্ষাখাতকে যথেষ্ট হুমকির মুখে ফেলে দিবে।তাই,করোনো পরবর্তী সংকট থেকে দেশের শিক্ষাখাতকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে ২০১৮ সালের প্যানেল প্রত্যাশীদের মধ্য দিয়ে প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন জানাচ্ছি।বিগত ২০১১,২০১২,২০১৩ সালে ৪৩,০০০+প্যানেলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।

 

অতএব,আপনার নিকট আকুল আবেদন এই যে, সর্ব বিষয়ে বিবেচনা করে আমাদের প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বাঙালি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির জনক, বাঙালির ঐতিহ্য,স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ কে স্মরণীয় করে রাখতে এবং “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা” বিনির্মাণে আমাদেরকে সুযোগ করে দিন।

 

নিবেদক

৩৭০০০ প্যানেল প্রত্যাশীর পক্ষে
মো. বখতিয়ার উদ্দিন
সভাপতি
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ প্যানেল বাস্তবায়ন কমিটি, কুষ্টিয়া জেলা।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।