বিশেষ নজরদারীতে দৌলতপুরের ছাতারপাড়া গ্রাম, নতুন আরো দু’জন আক্রান্ত, ডেঙ্গু আতংকে সাধারন মানুষ

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে ছাড়ারপাড়া নামক ছোট্র একটি গ্রামে ৩৮ জন নারী-পুরুষ ডেঙ্গু রোগি শনাক্তের পর সেখানে বিশেষ নজরদারী শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গত দু’দিনে ওই গ্রামে নতুন করে আরো ২ জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেখানে মশা নিধন ও জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডেঙ্গু রোগি শনাক্তে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে টিম কাজ করছেন। নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়েছে ছাড়ারপাড়াসহ আস-পাশের গ্রামগুলোতে। অস্থিরতা কাজ করছে অন্য গ্রামের সাধারন মানুষের মাঝেও। তাদের দাবী শুধু ছাড়ারপাড়া গ্রামই নয়, আসেপাশের গ্রামকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারীতে রাখা উচিৎ। তা না হলে যে কোন সময় অন্য গ্রামেরও একই চিত্রের আশংকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ছাড়ারপাড়া গ্রামে ডেঙ্গু মশা ও লাভা ধ্বংসে মশা নিরোধক স্প্রে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন ও স্থানীয় মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সেলিম হোসেন ফরাজী, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অরবিন্দ পাল দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অরবিন্দ পাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাক্কির আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার তৌহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব প্রমুখ।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অরবিন্দ পাল বলেন, ওই গ্রামে মোট ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৫ জন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে নতুন ২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওই গ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম কাজ শুরু করেছে। ওই টিমের সদস্য স্বাস্থ্য কর্মী ওয়ালিউর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত ও তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কাজ করছে ওই টিম।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শারমিন আক্তার বলেন, নতুন করে আর কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সে জন্য তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার সকল বিভাগের কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত টিম সেখানে সার্বক্ষনিক কাজ করছেন।

তিনি বলেন, শুধু ছাড়ারপাড়া গ্রামই নয়, আশপাশের গ্রাম ও ইউনিয়নকেও বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। ওইসব গ্রামেরও এডিস মশার বিস্তার রোধে স্প্রে ও পরিস্কার পরিচ্ছনতা কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়ে।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, এলাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও মশার লার্ভা ধ্বংসে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মেডিকেল টিম কাজ করছে। কেন এ এলাকায় এতো রোগি আক্রান্ত হলো সে বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। প্রয়োজন হলে তারা উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল পাঠাতে পারে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।