পাকা ধান ঘরে তুলতে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

রওশন জাহান, নওগাঁ : খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁ। দিগন্ত জুড়ে ইরি-বোরো ধানের সোনালী রঙে ভরা মাঠ। চলতি ইরি বোরো মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ১১ উপজেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু এখানকার চাষী লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ইরো বোরো ধানের চাষ করেন।

 

 

 

 

বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখনো হানা না দেয়ায় ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও চাষীরা। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। তবে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে চাষীরা শ্রমিক সংকটের দুশ্চচিন্তায় পড়েন। সেই সংকট কাটাতে ও পাকা ধান কৃষকের ঘরে তুলে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।

 

 

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: হারুন অর রশীদ জানান, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁয় শুরু হচ্ছে বোরো ধান কাটা মাড়াই। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে ধান কাটা শ্রমিক। গন্তব্যে পৌছার পর দেশের প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। থাকার জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারা যেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে ধান কাটে সেজন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

একই সাথে স্থানীয় যেসব শ্রমিক আছে, যুব সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে কাজে লাগানো হবে ধান কাটার কাজে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কৃষি প্রণোদনার আওতায় জেলায় ৬৫ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে। এসব মেশিন ১ ঘন্টায় ৩ বিঘা জমির ধান কাটতে পারবে। তাই এসব মেশিন কৃষকের ধান কাটার কাজে লাগানো হবে। যাতে কৃষক সুষ্ঠুভাবে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেন।

 

 

তিনি বলেন, খাদ্যমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জেলার ৯৯ টি ইউনিয়নে ধান কাটা শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ১৮০ টি থার্মাল স্ক্যানার দিয়েছেন। এসব থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে কৃষক পর্যায়ে যারা শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কারো শরীরে তাপমাত্র বেশি থাকলে তাকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারছি। এটি খাদ্যমন্ত্রীর একটি ভালো উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

 

 

 

মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের কিসমত কসবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিকদের সাথে মত বিনিময় ও শরীরের তাপামাত্রা মাপা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা শেষে এসব কথা জানান তিনি।

বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের চিড়া. মুড়ি ও গুড়সহ শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।