সীমান্তের এপার ওপারে রয়েছে মাদকের শক্ত ঘাটি

নানা কৌশলে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদক

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০
বিএসএফের

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরে গাংনীতে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে সীমান্ত পথে প্রতিদিন ব্যাপকভাবে নানা কৌশলে পাচার করে নিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য গাঁজা,মদ,ফেনসিডিল,ইয়াবা,হেরোইন । এসব মাদকের অভিশাপে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।আগের তুলনায় ইদানিং জোরে সোরে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ছোট খাটো মাদকাসক্তদের আটক করলেও প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

 

 

 

এদের মধ্যে অনেকে আত্মগোপনে আবার অনেকে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের অজ্ঞাত কারণে ধরছে না বা দেখতে পাচ্ছে না।একইসাথে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক দ্রব্য ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট মাদক বহনকারী ও ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ছে না।বর্তমানে ফেন্সিডিলের বাজার মূল্য বোতলপ্রতি ১ হাজার টাকা হওয়ায় যুব সমাজ অধিকলাভের জন্য মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।

 

 

 

এ উপজেলার সীমান্তের এপার ওপারে রয়েছে মাদকের শক্ত ঘাটি।এসব পয়েন্ট দিয়ে বানের পানির মতো মাদক পাচার হয়ে আসছে।এ সুবাদে গাংনীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মাদক আখড়া গড়ে উঠেছে।এআখড়াগুলোতে বিক্রি হচ্ছে মদ,গাজা,ফেন্সিডিলও স্পিরিট।তবে অধিকাংশ মাদক সেবীরা গাঁজা ও ফেন্সিডিলে আসক্ত।এসব আখড়া গুলো সিঁকিভাগ দিনের বেলায় খোলা থাকলেও অধিকাংশ আখড়া জমে উঠে সন্ধ্যার পর পরই। এসব আঁখড়া থেকে একশ্রেনীর দালালরা চাঁদা তোলে বলে ঁজানা গেছে ।

 

 

 

পুলিশ,বিজিবি, গোয়েন্তা ও র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া বেশ ক’জন মাদক ব্যবসায়ীদের দেয়া জবানবন্দীতে ফেন্সিডিল আখড়া ও পাচারের রুট সম্পর্কে পাওয়া গেছে বিচিত্র সব তথ্য।গাংনীর খাসমহল সীমান্তের ওপারে ভারতের ধাড়া ও তাজপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ভারতের লাইনম্যানের মাধ্যমে চোরাচালানীরা বাংলাদেশে ফেন্সিডিল নিয়ে আসে। এর পর গাংনী উপজেলার রংমহল, তেঁতুলবাড়িয়া, কাজীপুর, সহড়াবাড়িয়া, খাসমহল, কাথুঁলী সীমান্তের বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে পৌছে যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায়।

 

 

 

বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে সীমান্তের ওপারের ফেনসিডিল কারখানার তালিকা তৈরি করে। অনুসন্ধানকালে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ক্রেতা সেজে দেখতে পান টাকা দিলে খুব সহজে মেলে ফেনসিডিল।

 

 

ফেন্সিডিল পাচার হয়ে আসার পর দুর পার্ল¬ার বাস ট্রাক ও রোগিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে তা পৌছে যায় রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে। তাছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে মাদকের আঁখড়া। বিশেষ করে কাজিপুর ,হাড়াভাঙ্গা,করমদি, সহড়াতলা, বামন্দি ও বাওটে রয়েছে মাদকের আখড়া।

 

 

এলাকাবাসিরা জানালেন, বিভিন্ন মাদক ঘাঁটি ও আখড়া থেকে প্রশাসনের লোকজন পরিচয়ে নিয়মিত চাঁদা তোলে। আবার বিনা পয়সায় সেবনের কাজটিও সেরে নেয়। যারা বখরা বা চাঁদা দিতে চায়না সোর্সের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জেনে ধরিয়ে দেয়া হয়। আবার অনেক সময় যে পরিমান ফেন্সিডিল আটক করা হয় তার সিঁকি ভাগ উদ্ধার বা আটক দেখানো হয়। বাকিগুলো সোর্স ও দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

 

 

 

 

আগামী প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, মাদক পাচারকারি , মাদক বিক্রেতা সেবনকারি, একাজে প্রশ্রয়দানকারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছেন মেহেরপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। ফলশ্রæতিতে প্রায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশ, বিজিবি,গোয়েন্দা পুলিশ,র‌্যাব মাদক র‌্যবসায়ীদের আটক করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ইতোমধ্যেই ভাল কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ পুলিশ সদস্যদের পুরষ্কৃত করা হয়েছে।

 

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।