দৌলতপুরে সাংবাদিক রাজুর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০১৯
Spread the love

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সামনে সাংবাদিক ‘ দৈনিক সমকাল’ এর দৌলতপুর প্রতিনিধি আহাম্মেদ রাজুর ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং হামলাকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেলের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদের সামনে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১১টায় অনুষ্টিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর প্রেস ক্লাবের আহবায়ক প্রবীণ সাংবাদিক এম.জি.মুহামুদ মন্টু, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেস ক্লাব, আল্লারদর্গা প্রেসক্লাব, সীমান্ত প্রেসক্লাব, দৌলতপুর রিপোর্টার্স ক্লাব, পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভেড়ামারা রিপোর্টাস ক্লাব, ভেড়ামারা প্রেসক্লাব, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক সাংবাদিক বৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম.জি.মুহামুদ মন্টু, দৈনিক সময়ের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নূরূন নবী বাবু, সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন বাবু, শাহ জামাল, শরিফুল ইসলাম, আহাদ আলি নয়ন, খন্দকার জালাল উদ্দিন, সাইদুর রহমান, রনি আহাম্মেদ, সাইদুল আনাম, সেলিম রেজা, এস.এম শাহিন রেজা প্রমূখ।

জানা গেছে গত ৪/৬/২০১৯ তারিখে ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজু উপজেলার তারাগুনিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি ফেরার সময় বাজারের চার রাস্তার মোড়ে পৌঁছলে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী সোহেল ও তার সহযোগীরা অর্তকিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী সোহেল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজুর মাথা ও মুখে আঘাত করে ও বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। পরে সোহেল হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করলে স্থানীয়দের সহায়তায় রাজু প্রাণে বাঁচে যায়। শীর্ষ সন্ত্রাসী আলোচিত ফাইভ মার্ডার ও মাদকের একাধিক মামলার পলাতক আসামী ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেল রানা পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালায়। স্থানীয়রা সাংবাদিক আহাম্মেদ রাজুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পরের দিন গত বুধবার দৌলতপুর থানার ওসি আজম খাঁন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজীব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ মো. আল বেরুনী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সন্ত্রাসী সোহেলকে আইনের আওতায় নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। হামলার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আজম খাঁনের দীর্ঘ আশ্বাস দিলেও তার কোন ধরনের পদক্ষেপ বা অভিযান দেখা যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে পুলিশ সন্ত্রাসীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার ও দোষীদের খুজে বের করে,দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে উপজেলার পরিষদ গেটের সামনে সকল সংগঠনের কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নিয়ে মানববন্ধোন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করে।

বক্তারা বক্তব্য বলেন আহমেদ রাজুর উপর হামলার পাঁচ দিন পার হলেও প্রশাসনের কোন ধরনের পদক্ষেপ দেখাযায়নি। এমন ধরনের আচারণ তাদের কাছ থেকে কাম্য ছিল না। এ সময় সাংবাদিক নেতারা বলেন আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ও তার সহযোগীদের আটক করা না হলে ভেড়ামারা, কুষ্টিয়াসহ সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা জানান। মানববন্ধন শেষে দৌলতপুর উপজেলা চত্বরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সমনে গিয়ে শেষ হয়।

পাঠকের মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।