এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লীষ্ট উচ্চ মহলের দৃষ্টি আর্কষন করছে

দৌলতপুরে রাস্তার কাজে ঠিকাদারের দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে গ্রামবাসীর নামে চাঁদাবাজীর মামলা ॥ প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকায় এল.জি.ই.ডি’র অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়কের কাজে ঠিকাদারের অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
এ ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সিডিউল অনুযায়ী সড়ক নির্মান ও গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ১৯ জুন শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, মথুরাপুর জিসি থেকে জুনিয়াদহ জিসি’র ১৭৬২ মিটার পাকা সড়ক সংস্কারের কাজ পান টিটু এন্টারপ্রাইজ নামক চুয়াডাঙ্গার এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬৯,২৭,২৭৬ টাকা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২৯/১২/২০১৯ ইং তারিখে কাজ শুরু করে, শেষ করার কথাছিল গত ১২/০৩/২০২০ তারিখে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে ভেড়ামারা এলাকার নাসির নামে এক ঠিকাদারের কাছে কাজ বিক্রি করে দেন প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঠিকাদার নাসির থুথু দিয়ে ছাতু ভেজানোর মত করে স্থানীয় কিছু মাস্তানকে হাত করে, ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে সড়কের কাজ শুরু করে। গত ১৫ই জুন ঐ সড়কে র্কাপেটিং করার সময় নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার করায় কাজের মান এতই দূর্বল হয় যে, হাত দিয়ে কার্পেটিং উঠে যায়, এ খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসি প্রতিবাদ জানায় এবং কাজ বন্ধ করে দেন। এই ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৩ জন নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় চাঁদাবাজি ও মার পিটের অভিযোগ এনে মিথ্যা হয়রানি মূলক একটি মামলা দায়ের করে, থানা তদন্ত ছাড়াই অজ্ঞাত কারণে মামলাটি গ্রহণ করে।

গ্রাম বাসীর অনুসন্ধানে দেখা যায়, সড়ক নির্মান কাজের প্রাইম কোর্ট এর ৪৮ ঘন্টা পর র্কাপেটিং করার বিধান থাকলেও আগের দিন শুক্রবার সন্ধায় ঐ সড়কে প্রাইম কোর্ট করা হয়, এরপর বৃষ্টিতে প্রাইম কোর্ট ধুয়ে গেলেও পরদিন নতুন করে প্রাইম কোর্ট না করেই অনিয়ম ও দূর্নীতি করে নিম্ন মানের পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে ঐ সড়কের র্কাপেটিং করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি’র ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করার কথা কিন্তু আগের দিন রাতে কালো ড্রামের ইরানি বিটুমিন গলিয়ে ঐ সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রকৌশলী অফিসের দায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষতা অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তারা এড়িয়ে গেছেন। এলাকাবাসী জানায়, ১৬ জুন সন্ধ্যায় ঠিকাদারের নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নিয়ে যায় এবং পরদিন ১৭ জুন গ্রামবাসীদের নামে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী এ মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনাবাদ সড়কে মানববন্ধন করেছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাব কন্ট্রাকটর নাসির উদ্দিন এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার উদ্দিন জোয়াদ্দার জানান, আমার জানামতে কাজে কোন অনিয়ম নেই। তবে যদি কাজে কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এলাকাবাসীর নামে চাঁদাবাজির মামলা হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অবগত নন বলে জানান।
নিরীহ গ্রামবাসীর নামে মামলা হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত ভাবে গ্রামবাসী কোন অভিযোগ করেনি।
ঠিকাদারের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচার এবং গ্রাম বাসীর নামে মামলা প্রত্যহার সহ জোর তদন্তের দাবী জানান, যথাযথ তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লীষ্ট উচ্চ মহলের দৃষ্টি আর্কষন করছে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।