দৌলতপুরে মথুরাপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহযোগিতায় ব্যবসায়ীর পকেটে ৫ রাউন্ড গুলি দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা ॥ ওসি’র দূরদর্শিতায় ব্যর্থ

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২০

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোপালপুর বাগোয়ান এলাকায় পুলিশের সহযোগিতায় রবিউল ইসলাম রবি নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫ রাউন্ড পিস্তুলের গুলি দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় মিথ্যা অভিযোগকারী তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাদের এই অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জামালপুর সীমান্ত এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আশার (৩০) মাদক ব্যবসার বিপক্ষে অবস্থান নেন একই এলাকার ক্লিনিক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আশা রবিউল ইসলামকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ী আশা এবং তার দুই সহযোগী বাগোয়ানের আনোয়ার (৩২) ও পোয়ালবাড়ির রুহুল (৩০) স্থানীয় মথুরাপুর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই রনজিত কুমার ও টুআইসি এএসআই মাসুদ আহমেদের সহযোগিতায় নিরপরাধ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে ফাঁসাতে তৎপরতা শুরু করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ী আশা তার কয়েক সহযোগিকে নিয়ে শনিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রবিউল ইসলামের পকেটে ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ঢুকিয়ে আগেই ঘটনা সম্পর্কে অবগত মথুরাপুর পুলিশ ক্যাম্পের টুআইসি এএসআই মাসুদ আহমেদের হাতে ধরিয়ে দেন। এ সময় তড়িঘড়ি করে পুলিশ রবিউলকে গ্রেপ্তার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ী আশার পক্ষ অবলম্বন করে রবিউলকে কোনো কথা বলারই সুযোগ দেয়নি পুলিশ।

পুলিশের পক্ষে মথুরাপুর ক্যাম্প আইসি এসআই রনজিত কুমার এবং টুআইসি এএসআই মাসুদ আহমেদ মাদক ব্যবসায়ী আশার সাথে বিষয়টি নিয়ে আগেই দফারফা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে নিরপরাধ রবিউল ইসলাম মাদক ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল আলমকে অবগত করেন। খবর পেয়ে ওসি জহুরুল আলম, ওসি (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সত্যতা পেয়ে রবিউল ইসলামকে ছেড়ে দেন।

পরে শনিবার রাতেই পুলিশ ষড়যন্ত্রকারী মাদক ব্যবসায়ী আশা এবং তার দুই সহযোগী আনোয়ার ও রুহুলকে মিথ্যা অভিযোগ করে নিরপরাধ ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়।

এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার (১৫ নভেম্বর) গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তবে তাদের এ ধরনের অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠলেও ক্যাম্প আইসি এসআই রনজিত কুমার এবং টুআইসি এএসআই মাসুদ আহমেদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাম্প পুলিশ কর্তৃক নাজেহালের শিকার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম পার্শ্ববর্তী মহিষকুণ্ডি সীমান্ত এলাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিক। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ওসি জহুরুল আলমের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ষড়যন্ত্র থেকে বেঁচে যান রবিউল।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ী আশা তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমাকে গুলি দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। আশা মোবাইল ফোনে কৌশলে বাগোয়ান ব্রিজের কাছে আমাকে ডেকে নিয়ে পকেটে গুলি ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় তার সহযোগির আনোয়ার ও রুহুলসহ আরো ৭-৮ জন সেখানে উপস্থিত ছিল।

এরপর স্থানীয় ক্যাম্পের টুআইসি মাসুদের মোবাইল কল দেয় আশা। এর মিনিট তিনেকের মধ্যে টুআইসি মাসুদ সেখানে উপস্থিত হয়ে আমার কোনো কথা না শুনেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। ক্যাম্প পুলিশও মাদক ব্যবসায়ীদের এই ষড়যন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।।

মথুরাপুর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই রনজিত কুমার বলেন, ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পে ছিলাম। টুআইসি মাসুদ প্রথমে সেখানে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে আমি পরে গিয়েছি। মাসুদই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।

অন্যদিকে টুআইসি মাসুদ আহমেদ বলছেন, এ ব্যাপারে আইসি স্যার (রনজিত) সব জানেন। বিষয়টি তার কাছ থেকে শোনার অনুরোধ করেন তিনি। ক্যাম্প পুলিশের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এমন ঠেলাঠেলির ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে রবিউলের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মিথ্যা অভিযোগকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্প পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।