দৌলতপুরে বাগুয়ান বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০২০

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ১৫ নং বাগুয়ান বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান প্রধান শিক্ষক আসার পর থেকে বিদ্যালয়ের কোন দৃশ্যমান কাজ হয়নি। কিছু রং আর কিছু বর্ণমাল লিখা ছাড়া আর কোন কাজ হয় নাই ।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আশরাফুল হক জানান আগের প্রধান শিক্ষক সুলতান থাকতে প্রতি দুই থেকে তিন মাস পর পর আমাদের বিদ্যালয়ে ডাকতো। ডেকে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করতো। কিন্তু যে দিন থেকে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম যোগদান করেছে, সে দিন থেকে তিনি কোন সদস্যকে না ডেকে নিজের ইচ্ছা মত কাজ করেছে এবং সকল টাকা আত্মসাৎ করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে বিচার দাবি জানায়।

এ বিষয়ে মথুরাপুর ইউনিয়নের ইউ পি সদস্য আজিজুল হক জানান, এই ওয়ার্ডের আমি স্থায়ী বাসিন্দা, প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম যোগদান করার পরে কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করেন নাই। আমার জানা মতে সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর দেওয়া ১ লক্ষ টাকা অনুদান ঠিক মত কাজ না করে আত্মসাৎ করেছে সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি মোঃ মকলেচুর রহমান জানান, আমি সভাপতি হিসাবে যোগদান করার পরে বিদ্যালয় দেখে সন্দেহ হয়।
বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিদ্যালয় গুলিতে অনেক বরাদ্দ দেন। কিন্তু ১৫ নং বাগুয়ান বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হয় নাই। কেন হয় নাই প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। তাই আমি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তার অনুলিপি, ডি.ডি খুলনা, কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরারব দিয়েছি। তদন্ত করে সঠিক বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেন নাই, তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক সাইফুল সব জানেন।
সাবেক এম.পি রেজাউল হক চৌধুরীর বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, ৩০ হাজার টাকা উপজেলা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে বাঁকি ৭০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে।

এ দিকে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ সাবেক সভাপতির দিকে ঠেলে দেন, তিন বলেন সব সভাপতি জানেন। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহিদা সিদ্দিকা জানান, অভিযোগ হয়েছে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবেন, অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।