দার্জিলিং-এর দিনগুলি

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

ড. আমানুর আমান: আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে এটি হলো জাপানিজ টেমপল। বলা হয় পিস প্যাগোডা। বৌদ্ধ উপাসনালয়। চারদিক নীরব। ছোট্ট দোতলা ভবন। পরিপাটি। আমি এটার নাম দিয়েছিলাম নি:সঙ্গ শান্তি মন্দির। কারন ওখানে গেলে নি:সঙ্গতা আরো বাড়তো। পিস প্যাগোডার প্রবেশ পথটা বেশ সুন্দর। সামনে কিছু শোভা গাছ। দুটি সিংহের মূর্তি। উপরে পিংক কালার। মূল ভবন সাদা। প্রশাসনিক ভবন এটি। এর ডান পাশে ছোট্ট একটি ফুলের বাগান। এখানে বছরের বিভিন্ন সময়ের সাথে টালি করে ফুল গাছ রোপন করা হয়। তাই সারা বছরই ফুলে ফুলে ভরা থাকে টেমপল আঙিনা। খানিকটা দূরে প্যাগোডার মূল গম্বুজ। পুরোটা শান্তির রং সাদায় মোড়া। সামনের চত্বর, সিঁড়ি শ্বেত পাথরের।

 

এখানে ডান সাইডটায় সুভাষ ঘিসিং-এর বাড়ি। আমি এখানে প্রায়ই যেতাম। তবে ঘিসিং-এর বাড়ির চৌহদ্দিতে কখনই পা মাড়াইনি। ওখানে প্রায় মারামারি লাগত। আমি যেতাম টেমপলে পাশে রঘুরাম পাথনাথের চানাচুরের দোকানে। ওর কাছে প্রায় ৪৯ রকমের চানাচুর থাকতো। কি যেন এক মাংসের ঝুরঝুড়ি দিয়ে চানাচুর মাখিয়ে দিতো। তবে কিসের মাংস কখোনই সে বলেনি। গুর্খা লোকেরা খুব খেতো। আমিও খেতাম।

লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান

কারন অদ্ভুত টেস্ট ছিল। ওকে যে যতবার পয়সা দিত সে ততোবার পয়সা হাতে নিয়ে টেমপলে একটা করে কুনির্শ দিতো। আমি ওকে একদিন বললাম তুমি তো হিন্দু তবে বৌদ্ধ মন্দিরে কুর্নিশ যে ! ও এমন এক উত্তর দিল আমি হতবাক। ও বলল-দেখ সব ধর্মেরই বিধাতা আছে। কিন্তু কারটা সত্যি কে জানে ! তাই সবাইকেই খুশি রাখা আর কি !

 

লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমানের ফেসবুক স্টাটাস থেকে নেওয়া ।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।