শখের বশেই ১৯৯৭ সালে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে মাত্র চারটি মধুর বাক্স নিয়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু করে

কুষ্টিয়া মিরপুরের মধু খামারী মামুনের এবারের মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১২ টন

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০
মামুনের মৌখামার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাইকেলে দুইটি বালতি, একটি ছুরি আর পেছনে এক আঁটি ধানের খড় বা হলুদের শুকনো পাতা নিয়ে চলতে দেখা যায় মধু সংগ্রহকারীদের। ধোঁয়া সৃষ্টি করে মৌচাক থেকে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহ করেন তারা। তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক মধুর চেয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ অনেক বেশি লাভজনক। সেদিক বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে মধু খামার করেছেন কুষ্টিয়া মিরপুরের মামুনার রশিদ মামুন। সবাই তাকে মধু মামুন নামে চিনে।

মামুন জানান, শখের বশেই ১৯৯৭ সালে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে মাত্র চারটি মধুর বাক্স নিয়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা শুরু করি। এরপর ১৯৯৮ সালে আমি মাস্টার্স পাস করি। তারপর চাকরির আশা না করে শুরু করি মধু চাষ। এখন আমার খামারে দুই শতাধিক মধুর বাক্স রয়েছে। এখন এগুলোর একেকটির মূল্য ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ধারণা ও দূরদৃষ্টি, অধ্যবসায় আর পরিশ্রম দিয়ে সফল হয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের তরুণ মধু ব্যবসায়ী মামুন।

চাকরির পেছনে না ছুটে ক্ষুদ্র পরিসরে মধু চাষ শুরু করেন তিনি। সরিষা, কালোজিরা, লিচুসহ বিভিন্ন শস্য ও ফলের মৌসুমে তিনি এসব মৌ-বাক্স পেতে রাখেন। সাফল্য পেয়ে এখন কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের ১০টি জেলায় তিনি গড়ে তুলেছেন মৌ-খামার। তার খামারে কর্মসংস্থান হচ্ছে অনেক বেকার তরুণের। বিভিন্ন জেলায় গড়ে তোলা মধু খামার থেকে বছরে উৎপাদিত প্রায় ১০ টন মধু, দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। সরকারী সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মামুনের মধু খামারকে দেশের বৃহৎ মৌ-কোম্পানিতে রূপান্তরের আশা স্থানীয় জন প্রতিনিধির। কীটনাশক ব্যবহারসহ নানা কারণে ইদানীং মৌমাছি কমে যাওয়ায় হুমকিতে পড়েছে দেশের কৃষি। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধু চাষ, মৌমাছির বংশ বিস্তার ও পরাগায়ন ঘটিয়ে কৃষিতে ফলন বাড়াবে বলে মনে করেন কৃষিবিদরা। দেশে পুষ্টিঘাটতি পূরণে, মধুর ব্যবহার বাড়াতে সরকারের ব্যাপক প্রচারাভিযান দরকার বলে মনে করেন মধু চাষী মামুন। এতে মধুর সাথে যেমনি বাড়বে শস্য উৎপাদন, তেমনি কৃষি হয়ে উঠবে আরো লাভজনক।

মধু মামুন বলেন, নিজে কিছু করার চেষ্টা এবং অন্য মানুষদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই আমার এ পথচলা। আমার খামারে উৎপাদিত মধু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হয়ে থাকে। তিনি জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও নাটোরের ও চলনবিল সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ চলছে। মাত্র দুই সপ্তাহেই তিনটি খামার মিলে সপ্তাহে ২৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বছর ১৪০টি বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ১২ টন মধু।

মিরপুরের ধুবইল ইউনিয়নে স্থাপিত মধু মামুনের মৌখামার পরিদর্শণ শেষে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের ফলে একদিকে ফলন বাড়ছে এবং মধু সংগ্রহের ফলে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। মামুন এ উপজেলার একজন মডেল মৌ-খামারি। মধু চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।