কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০
স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় ৮ম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপর কয়েকজন কিশোর মিলে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহষ্পতিবার দুপুরের পর থেকে মারধরের ঐ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এ ব্যাপক ভাইরাল হতে দেখা যায়। তবে এই ঘটনায় এখনও কেউ থানায় এসে অভিযোগ করেনি বলে জানায় কুষ্টিযা মডেল থানা পুলিশ।

 

 

 

ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়ক সংলগ্ন নির্মানাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের নিকটস্থ হাউজিং এলকার চাঁদাগাড়া মাঠের কোন একটি স্থানে একটি কিশোরকে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোর অপর কিশোরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে অন্য এক কিশোর ঠেকানোর ” চেষ্টা করছে’। ঘটনার সময়ে সেখানে উপস্থিত কারো মোবাইলে ভিডিও করে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

 

 

 

জানা যায়, মারধরের শিকার কিশোর লাবিব আলমাস কুষ্টিয়ার কালেক্টর স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

লাবিব আলমাস জানায়, “আমাকে মাহাবুবুর রহমান অভি মারছে, আমরা একই স্কুলে একই সাথে পরতাম। কোন এক খারাপ কাজ করায় ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে টিসি দিয়ে বের করে দেন। তারপর থেকে আমাদের কথা ফেসবুকের মাধ্যমে কথা আদান প্রদান করতাম। আমি সকালে স্কুলে অ্যাসাইমেন্ট জমা দিতে গেলে অভির সাথে দেখা হয় এবং আমাকে বিকালে দাওয়াতের কথা বলে। বিকেলে কোটপাড়ায় অভির বাসায় গেলে অভি রিক্সায় করে হাউজিং চাঁদাগার মাঠের মধ্য নিয়ে যায়। কোন কিছু ভাবার আগেই অভি ও মিতুল (সবুজ টি শাট) এর সাথে আমাকে তিন চারজন মিলে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে। ওদের মধ্যে থেকে শাউন নামের একজন মারতে নিষেধ করছিলো। আগ থেকে আমাকে মারার সিদ্ধান্ত করে রেখেছিলো ওরা। কোন রকম ওখান থেকে পালিয়ে যায়।”

 

 

সে বলে, “আমি বার বার বলছিলাম কেনো আমাকে মারছো? তারা কিছুই শুনছিলো না, মারছিলো। আমাকে মাপ করে দেও, ক্ষমা করে দেও বলে আকুতি করছিলাম তাও তারা মারছিলো আমাকে। পরে ওর পাশে কাজ করছিলো এমন কিছু লোক এগিয়ে আসায় আমি সেখান থেকে চলে আসার সুযোগ পায়।”

 

 

তবে কিশোর গ্যাং দের ক্ষমতার দাপট দেখানো ও গ্রুপিং এর কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহর এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চল ও গ্রুপ ভিত্তিক অন্তত: ২২টি কিশোর গ্যাং দোর্দন্ড প্রতাপে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরজুড়ে। তারা বাসা থেকে রেড়িয়ে অভিভাবকদের দৃষ্টি এড়িয়ে মাদক সেবনসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল।

 

 

 

লাবিব আলমাসের মা অভিযোগ করেন, “আমার ছেলে কোন কিশোর অপরাধের সাথে জড়িত না। সে এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে গিয়েছিলো। আর ওর আগের বন্ধু অভি দাওয়াতের নাম করে ডেকে মারধর করেছে। আমি এর বিচার চাই।”

 

 

অভি বর্তমানে শহরের কোর্টপাড়ায় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করেন। তার গ্রামের বাড়ী দৌলতপুর উপজেলাতে। সে কুষ্টিয়া কলকাকলী স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

 

 

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, “লাবিব আলমাসকে মারধরের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এসে অভিযোগ করার কথা বলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা রয়েছে। তাদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।