কুষ্টিয়ায় মার্কেট গুড়িয়ে জমি দখলের ঘটনায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
জেলা ও দায়রা জজ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে জোড় পূর্বক ব্যাক্তি মালিকানা জমির মার্কেট ভেঙ্গে দখলের ঘটনায় এক শিল্পপতি ও জেলা পরিষদের ৫কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

 

 

রবিবার বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক রাখিবুল ইসলামের আদালতে দাখিলকৃত আরজিটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাদির আইনজীবি এ্যাড. মাহতাব উদ্দিন। মামলা নং ৫৭/২০২০। মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের সমন জারি এবং আগামী ২৪নভেম্বর বিবাদীগন হাজির হয়ে শুনানীর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

মার্কেট দখলের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকায় যাদের বিরুদ্ধে এই ক্ষতিপূরন মামলা করা হয়েছে তারা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মো: মনিরুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান শাহীন এবং দখলকৃত জমিতে স্থাপনা গড়ে তোলা শিল্পপতি কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০জুন,২০১৯ তারিখে বিকাল ৪টায় সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশর্^স্থ বটতৈল এলাকার রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মামলিকানা স্বত্ত¡ দখলীয় ও রেকর্ডভুক্ত জমির উপর নির্মিত ২২টি দোকান বিশিষ্ট ‘প্রামানিক মার্কেট’ নামের দ্বি-তল ভবনটি গুড়িয়ে দিয়ে জবর দখল করেন ঘটনাস্থলেরই ‘কেএনবি কঘই এগ্রো ইন্ডা: লি:’ নামক একটি পোল্ট্রি, মৎস ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানা মালিক কামরুজ্জামান। তার দাবি জমিটি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা সূত্রে প্রাপ্ত। যদিও উল্লেখিত বটতৈল মৌজার খতিয়ান নং আর এস ৯৫৮ দাগ নং ২০২৮এর জমির মালিকানা সংক্রান্তে জেলা পরিষদের দাবির কোন ভিত্তি নেই বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা।

 

 

 

এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাকিবুল ইসলাম বাদি হয়ে আড়াই কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের দাবি করে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আরও ৩কর্মকর্তা ও শিল্পপতি কামরুজ্জামান ছাড়াও ১২-১৫জন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে দ:বি: ১২০(খ)/১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪০৩/১০৯ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ থানায় মামলা না নেয়ায় অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রেজাউল করীম এর আদালতে মামলা করেন। মামলা নং সি আর-৫৯৭/২০১৯। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত ঘটনার তদন্তসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারকে। যদিও আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশ সুপার কার্যালয় হতে দাখিল কৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত চুড়ান্ত মন্তব্যে বিবাদীদের দায় হতে অব্যহতি দানের সুপারিশকে পক্ষপাত দুষ্ট বলে অভিযোগ এনে নারাজি দাখিল করেন বাদির আইনজীবী। বিজ্ঞ আদালতও নারাজি আবেদনটিকে যৌক্তিক বিবেচনায় আমলে নেন।

 

 

 

প্রকাশ্য দিবালোকে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক মার্কেট গুড়িয়ে এই জবর দখলের ঘটনায় সব হারানো সর্বশান্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাকিবুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁ সুগার মিলের জিএম (কারখানা)) মানসিক চাপের মুখে মামলাটি চলমান অবস্থায় গত ৭ফেব্রæয়ারী,২০২০ তারিখে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। পরে বাদির ওয়ারিশগন মা, স্ত্রী ও দুই পূত্র ক্ষতিপূরণ দাবিতে এই মামলাটি করেন আদালতে।

 

 

 

মামলার বাদি সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের মৃত: আনোয়ার আলীর ছেলে মরহুম রাকিবুল ইসলামের ওয়ারিশগণ মা রোকেয়া খাতুন, স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন, পূত্র হুসাইনুল ও হুজ্জাতুল ইসলাম। বাদিগণ ক্ষতিপূরণ দাবির তফশীলে উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে- নয় শতক জমির উপরিস্থ ৪তলা ভিত্তি সম্পন্ন ২২টি দোকান বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের লুটপাটকৃত সর্বপ্রকার মালামাল যার আর্থিক মূল্য ২কোটি ৭০লক্ষ টাকা, গত বছরের জুন মাস থেকে অদ্যবধি ১৫মাসের দোকান ভাড়া(প্রতিমাসে ১লক্ষ২০ হাজার টাকা হিসেবে) ১৮লক্ষ টাকা, অপরাধ সংঘটনের ফলে বাদীগনের পূর্বাধিকারী মানসিক বিপর্যয়ের মুখে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাকিবুল ইসলামের মৃত্যুজনিত ক্ষতি বাবদ ২কোটি টাকাসহ উচ্চ ও নি¤œ আদালতে মামলা পরিচালনার সমুদয় খরচের টাকা। মামলার বিবাদিগণ পরস্পর যোগসাজসে ১২০(খ)/১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪০৩/১৭৯ ও ৪২৭ ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় এই ক্ষতিপূরণের দায় তাদের উপর বর্তাবে বলে জানালেন বাদির আইনজীবী এ্যাড. মাহতাব উদ্দিন।

 

 

 

এবিষয়ে শিল্পপতি ‘কেএনবি কঘই এগ্রো ইন্ডা: লি:’ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, জমিটি আমাকে জেলা পরিষদ লীজ দিয়েছেন। মামলা হয়ে থাকলে আমি আইনগত ভাবেই তা মোকাবিলা করব।

 

 

 

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামানের সেল নং ০১৭২০৩৫৭২৮৪ তে একাধিককার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি, কল রিসিভের অনুরোধ করে এসএমএস দিয়েও কোন সারা দেননি। তার অফিস টিএন্ডটি নং ০৭১৭৩৭৪৯এ কল করলে তার অফিস সহায়ক এনামুল রিসিভ করেন এবং জানান স্যার অফিসেই আছেন।

 

 

 

তবে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিবাদী শফিকুল আজম বলেন, দেখুন আমি এখানে চাকরী করি। আমার ব্যক্তিগত কোন বিষয় নয়। যা কিছু হয়েছে সব চেয়ারম্যান স্যার এবং প্রধান নির্বাহীর হুকুমে আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। মামলা হয়েছে এটাও উনারাই দেখবেন।

 

 

 

‘সরকারী কাজ করতে গিয়ে যদি মামলা হয় তাহলে সেটা সরকারই দেখবেন’ বলে জানালেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান।

 

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।