কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণে মাদ্রাসায় হামলা, সুপার গ্রেফতার

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০
সোমবার রাতে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ

রবিবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় মাওলানা আবদুল কাদের মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে রাত ৮টার দিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করেন তিনি।

 

কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় মিরপুর থানায় ঐ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগের মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর পিতা।

 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরুপদহ চকপাড়া এলাকার সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মাদ্রাসার সুপার (প্রধান শিক্ষক) ও উক্ত এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল কাদের (৪২) কিছুদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণীর ওই আবাসিক ছাত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সোমবার (১০ অক্টোবর) একই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি ওই ছাত্রী তার এক সহপাঠীকে জানায়। ওই সহপাঠীর মাধ্যমে সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা মাদ্রাসায় হামলা চালায় এবং ভাঙচুরও চালায়।

 

এঘটনায় মিরপুর থানায় করা মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর বিকেলে ওই মাদ্রাসার এক ছাত্রীর অভিভাবক তার মেয়ের খাবার দিতে আসলে অফিস কক্ষে শিক্ষক-ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। বিষয়টি সোমবার সকালে ভিকটিমের পরিবারকে অবহিত করলে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসা এসে তার মেয়ের নিকট থেকে বিস্তারিত ঘটনা শুনেন। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায়। মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের গত (০৪ অক্টোবর) ভোর ৫টার সময় এবং একইদিন রাত ৮টার সময় ওই ছাত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

 

পুলিশ জানায়, নির্যাতিতা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী সপ্তাহের ৬ দিন সে ওই মাদ্রাসায় থাকতো। প্রতি শুক্রবার সকালে তার বাবা তাকে বাড়ি নিয়ে যেত, আবার শনিবার সকালে পৌঁছে দিত মাদ্রাসায়। গত শনিবার সকালে মেয়েটির বাবা তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। পরে ভোর রাতে ফজরের নামাজের সময় মাদ্রাসার সুপার ম্ওালানা আব্দুল কাদের মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করেন তিনি। সুপার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে শাসিয়েও দেন। তবে মেয়েটি সোমবার সকালে তার এক সহপাঠিকে বিষয়টি জানায়। আর ওই সহপাঠি ঘটনাটি নিজের বাবাকে জানালে তা এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

 

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, সোমবার বিকেলে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর পিতার করা ধর্ষণ অভিযোগের মামলায় একমাত্র আসামী মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল কাদেরকে রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।