কুষ্টিয়ায় পোল্ট্রি খামারীর খাম-খেয়ালী

বিদ্যুৎবাহী নিরাপত্তা বেষ্টনীর তারে জড়িয়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদি মন্ডল পাড়া এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামার ঘরের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখায় তারে জড়িয়ে নুরজাহান(৩৫) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু হওয়া ওই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। মৃত নারী শ্রমিক নুরজাহান স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলীর কণ্যা।

 

 

 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, কুষ্টিয়া পৌরসভায় কর্মরত সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নান ও তার বন্ধু হেলাল দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে এখানে মুরগীর খামার করে ব্যবসা করেন। সেখানে নিরাপত্তা রেষ্টনী হিসেবে খামারটির সীমানা ঘিরে ইলেকট্রিক তার দিয়ে মোড়ানো থাকে। প্রতি রাতেই খামারের চারিদিকে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও খামার মালিক সার্ভেয়ার মান্নান তাতে কর্ণপাত করেনি। খামার মালিক মান্নান স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তার খাম-খেয়ালীপনায় এভাবে একজন অসহায় নারী শ্রমিকের মৃত্যু হলো বলে ক্ষুব্ধ অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খামারে নারী শ্রমিক নূরজাহান কাজ করতে ভিতরে প্রবেশের সময় বিদ্যুৎবাহী তারে জড়িয়ে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

এ বিষয়ে কথা বলতে খামারী মালিক আব্দুল মান্নানের মুঠো ফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ উপ পরিদর্শক লিপন সরকার জানান,খামারটির মালিক কুষ্টিয়া পৌরসভায় কর্মরত সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নান। এটি সার্বক্ষনিক পরিচালনা করেন তার বন্ধু হেলাল। এখানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) মো.কামরুজ্জামান এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকালে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্যে একজন মহিলার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। বিদ্যুতের তারে সংযোগ দিয়ে অবৈধভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনী করার কারণে এই মৃত্যু হয়ে থাকলে তা হত্যাকান্ডের দায়ে মামলা হবে এবং দোষীকে গ্রেফতার করা হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।