কুষ্টিয়ায় ত্রাণ ও চাল আত্মসাত অভিযোগে মেয়র-চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর-মেম্বারদের বিরুদ্ধে মামলা

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় সরকারী ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের দায়ে কুমারখালী পৌর মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলর এবং ভিজিডি ও ওএমএস এর চাল আত্মসাৎ ও কার্ড জালয়াতি ও বিতরণে অনিয়মের দায়ে দৌলতপুর উপজেলার ৪নং মরিচা ইউপি চেয়ারম্যানসহ মহিলা ইউপিসদস্যের নামে পৃথক দুটি মামলা করেছে আদালত।

 

 

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সেলিনা খাতুন এর আদালত স্ব-প্রনোদিত এই মামলাটি রেকর্ড করেন।

 

 

আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত ক্রিমিন্যাল মিসকেস নং কুমারখালী ০২/২০২০ এবং দৌলতপুর মিসকেস নং ০৩/২০২০ ফৌ:কা:বি: ১৯০(১) (সি) ধারায় আমলযোগ্য মামলার আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কুমারখালী ও দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদ্বয় কুষ্টিয়া বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করেন

 

আদালতসুত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৩শ ৫০ প্যাকেট ত্রাণ সংশ্লিষ্ট মেয়র এর নিকট হতে কাউন্সিলর গণ অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য গ্রহণের পর বিতরণ করেন। কিন্তু উক্ত ত্রাণ বিতরণে সঠিকতা সন্ধানে কুষ্টিয়া পুলিশের বিশেষ শাখা তদন্ত করে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পান। অনুসন্ধান এ জানা যায় উল্লেখিত ওয়ার্ডগুলোতে তালিকায় না থাকা গরীব, অসহায় ও দুস্থ হতদরিদ্র ব্যক্তির ত্রাণ সামগ্রী পাননি এবং মাষ্টাররোল টিপসহি বা স্বাক্ষর দেননি। কিন্তু তাদের নামের পাশের স্বাক্ষর ও টিপসহি দেখানো হয়েছে যা ভুয়া। সরকারী ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম অভিুক্ত কুমারখালী পৌর সভার ওয়ার্ড গুলো হলো- ১,২,৪,৬,৭,৮ এবং ৯।

 

 

অপরদিকে দৌলতপুর থানাধীন ৪নং মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেচয়ারম্যানের যোগসাজসে ইউপি সদস্যরা নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে ভিজিডি কার্ড এবং ওএমএস এর কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে এবং ১৫ মাস ধরে প্রকৃত কার্ডধারী দুস্থদের চাল আত্মসাৎ করে আসছেন।

 

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম “এবার ত্রাণ বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ কুমারখালীর পৌর মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে” এবং “চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে দুস্থদের চাল নিচ্ছে মেম্বার, ইউএনও জানে না কিছু” গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন বিষয় আদালতের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে আমলে নেয়া হয়েছে। ফলে উক্ত বিষয়টি তদন্তপূর্বক মামলা যথাক্রমে আগামী ২৩-০৬-২০২০ খ্রিঃ ও ২৪-০৬-২০২০ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুমারখালী ও দৌলতপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া গেল।”

 

 

সংশ্লিষ্ট দৌলতপুর ও কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ যথাক্রমে এএম আরিফুর রহমান এবং মজিবুর রহমান জানান, সরকারী চাল আত্মসাতের ব্যাপারে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে আদেশের কপি এখনও হাতে পায়নি। হাতে পেলে নির্দেশনানুযায়ী তদন্তসহ আইনগত ব্যব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।