কুষ্টিয়ায়া পিজিসিবির গ্রীডে অগ্নিকান্ডে তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায়র বটতৈলস্থ ৩৩ কেভি জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন উপকেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুইটি ট্রান্সফরমারে একটি সম্পূর্ন রূপে এবং অন্যটিরও বেশীর ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সমগ্র কুষ্টিয়াসহ মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা,ও রাজবাড়ির আংশিক এলাকাজুড়ে গত ৪৮ঘন্টা বিদ্যুৎ হীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২০মে বুধবার রাত ১০টায় সংঘটিত অগ্নিকান্ডের পর থেকে অদ্যবধি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নসহ সমগ্র জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

ঘুর্নিঝড় আম্পান তান্ডবের পর বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ টিমসহ শতাধিক টেকনিশিয়ানরা ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার মেরামত ও পুনস্থাপন করে অচল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সচলে বিরতিহীন কাজ করে যাচেছন বলেন জানান পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন ও মেইন্ট্যোনেন্স) প্রকৌশলী মো: মাসুম আলম বকসী।

 

পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনব চন্দ্র দেবনাথ জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান তান্ডবে ক্ষতিগ্র্স্ত বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন ইতোমধ্যে আমরা মেরামত সম্পন্ন করেছি। এখন গ্রীড স্টেশন সচল হলে এবং ওজোপাডিকো’র বিতরণ ফিডার লাইনে সংযোগ স্থাপন হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 

তবে এবিষয়ে পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন ও মেইন্ট্যোনেন্স) প্রকৌশলী মো: মাসুম আলম বকসী ক্যামেরার সামনে সুনির্দিষ্ট করে কোন সময়সীমা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড সাবষ্টেশনের দুইটি ট্রান্সফরমার এর একটি সম্পূর্ন এবং অন্যটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় কাজ করছি; দেখা যাক কতক্ষনে মেরামত শেষ করতে পারি। যত দ্রæততম সময়ের মধ্যে সম্ভব আমরা এই সাব ষ্টেশনটি সচল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করব।

 

 

এদিকে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সোহরাব আলী বিশ্বাস জানান, সমগ্র কুষ্টিয়া জুড়ে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় মোকাবিলা করতে আমরা বিকল্পভাবে ভেড়ামারা গ্রীড সংযোগ থেকে নেয়া মিরপুর সাবষ্টেশনের ২০ মেঘা বিদ্যুৎ থেকে একটি বাইপাশ লাইন ব্যবহার করে থেকে ১৬ মেঘা ওয়াট নিয়ে তা সরবরাহের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহর ও গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা চালাতে একটা ব্যাক আপ দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখানে চাহিদার তুলনায় এই বিদ্যুৎ একেবারেই যৎসামান্য, সেকারণে অবশ্যয় এখানে রেশনিং সিষ্টেমে চালাতে হবে।

 

 

পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহামন জানান, যদি কখনো গ্রিড লাইন প্রাকৃতিক বা বৈদ্যতিক গোলযোগের কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেজন্য এক জেলা থেকে অন্য জেলা বা গ্রিডের বিদ্যুৎ ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে অন্য গ্রিডে বা জেলায় বিকল্প লাইন প্রস্তুত রাখার জন্য ওজোপাডিকো কুষ্টিয়া সার্কেলের এক সভায় সকল পল্লী বিদ্যুৎ এর জিএম, ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী সমন্বয়ে যৌথ সভায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নির্দেশনা দেন। যার ফলে বটতৈল গ্রিড বন্ধ থাকা সত্তে¡ও বিকল্পভাবে লাইন চালু করা সম্ভব হয়েছে

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।