এয়ারপোর্ট এসে স্ত্রীর পাসপোর্টসহ স্বামীর পলায়নের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

অবশেষে নারী নির্যাতন আইনে মামলায় দেবর গ্রেফতার,

ধনঞ্জয় পলাতক থাকায় করোনা ভাইরাস বহন করছে কি না এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন!

উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)থেকে: নবীগঞ্জের ছেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে বউ নিয়ে দেশে আসলেও ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে স্ত্রীকে রেখে তার পাসপোর্টসহ স্বামীর পলায়নের ঘটনাটি নবীগঞ্জ শহরে তোড়পাড় চলছে।

এদিকে স্ত্রী অনুস্মিতা দেব অনু করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শেষে গত ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বামী ধলঞ্জয় চন্দ্র দেব এর বাড়ি নবীগঞ্জ শহরের গয়াহরি গ্রামে আসলে শশুড় বাড়ির লোকজন তাকে ঘরে না তোলে গেইট তালাবদ্ধ রেখে তাকে আটকে রাখে। এ সময় গৃহবধু ঘরে ঢুকার চেষ্টাকালে শশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার মা’কে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে আহত গৃহবধু অনুস্মিতা দেব অনুর মা সঞ্চিতা ধর বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় পুলিশ রবিবার দিবাগত গভীর রাতে অনুস্মিতা দেব এর দেবর দিপংকর দেব (২৭)কে গ্রেফতার করেছেন। গতকাল সোমবার ধৃত দিপংকর দেবকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ শহরে তোলপাড় চলছে।

সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার গয়াহরি গ্রামের ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেব এর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ছেলে ধনঞ্জয় চন্দ্র দেব এর সাথে বিগত ২০১৮ইং সালের ১৪ নভেম্বর বিয়ে হয় উপজেলার বদরদী গ্রামের বাসিন্দা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ রথীন্দ্র চন্দ্র দেব এর উচ্চ শিক্ষিত কন্যা অনুস্মিতা দেব অনু’র। বিয়ের পর ধনঞ্জয় দেব ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়া যেতে হলে যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবী করেন স্ত্রী অনু’র কাছে। তার আংশিক দাবী মানার পর বিগত ২০১৯ইং সালের ৫ ফেব্রæয়ারি নববধুকে নিয়ে অষ্ট্রেলিয়া পাঁড়ি দেয় ধলঞ্জয় দেব। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী ঊভয়ই সুখী জীপন যাপন করছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরই আসল চেহারা ধরা পড়ে ধনঞ্জয় দেব এর। প্রায় প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে তার স্ত্রীকে। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা করার কথা বলে পিতার কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে আনার চাপ দেয় অনুস্মিতাকে। স্বামী কথায় রাজি না হওয়ায় অনুস্মিতা দেব অনু’র উপর নেমে আসে নির্যাতন। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনকে জানালে সুচতুর ধনঞ্জয় দেব গত ১৭ মার্চ স্ত্রী অনুস্মিতা দেবকে সাথে নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন। ওই দিন রাত ১০.৩০ ঘটিকায় ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর পৌঁছার পর স্ত্রীকে ধোকা দিয়ে স্বামী ধলঞ্জয় দেব অনুস্মিতার পাসপোর্ট, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, লাগেজসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে স্ত্রীকে এয়ারপোর্ট রেখেই পলায়ন করে। এ ঘটনায় হতভম্ভ স্ত্রী অনুস্মিতা দেব। দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। স্বামী ধনঞ্জয় দেব এর মোবাইল ফোনের সুইচ অফ থাকায় বাধ্য হয়ে ফোন দেন অনু’র পিতা-মাতাকে। এক পর্যায়ে বিমান বন্দরে স্থাপিত কোয়ারেন্টিনে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাই ও মা’কে সাথে নিয়ে শশুড়বাড়ি গয়াহরি গ্রামে আসেন স্ত্রী অনুস্মিতা দেব অনু। কিন্তু শশুড় বাড়ির লোকজন পুত্রবধুকে ঘরে না তোলে গেইটে তালাবদ্ধ করে রাখে। বারবার আকুতি জানানোর পরও শশুড় বাড়ির লোকরেদর মন গলেনি। বাধ্য হয়ে অনু ঘরে ঢুকার চেষ্টা করলে শশুড় বাড়ির লোকজন তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে পুলিশ, এলাকাবাসী, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তবে পুত্রবধুকে ঘরে না তোলে শেষ পর্যন্ত পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্ত্রী অনুস্মিতা দেব অনু’র মা বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ ধনঞ্জয় দেব এর বাড়ি শহরতলীর গয়াহরি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তার ভাই দিপংকর দেবকে গ্রেফতার করে। মামলার অপর আসামীরা বাড়িঘর ছেড়ে পলাতক রয়েছে বলে জানাগেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ জানান, আসামীদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে ধনঞ্জয় দেব এর বড় ভাই দীপক দেব জানান, আমাদের বাড়িতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগটি মিথ্যা ও সাজানো। এদিকে ধনঞ্জয় পলাতক থাকায় সে করোনা ভাইরাস বহন করছে কি না এ নিয়েও জনমনে রয়েছে নানান আলোচনা। এছাড়া ধনঞ্জয়ের পিতা ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবকে নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।