ইবির উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করেছেন কোষাধ্যক্ষ ড. সেলিম তোহা

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

,সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা দশম ট্রেজারার হিসেবে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশেষ সাক্ষাৎকারে গত চার বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে তিনি কোষাধ্যক্ষের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও চ্যান্সেলরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি নিবেদিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।

 

 

 

তিনি বলেন, ট্রেজারারের পদটি পার্লামেন্টের পাশকৃত এ্যাক্ট প্রদত্ত পদ যা আমার দায়িত্বে ছিলো। সে দায়িত্ব আমি অনুরাগ বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। আর্থিক বিষয়ের বাইরেও ট্রেজারারের আরও সামগ্রিক প্রশাসন কেন্দ্রিক ও অন্যান্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব ক্ষেত্রগুলোতে মাননীয় উপাচার্য ও উপ- উপাচার্য সহ আমরা তিনজন একত্রিত হয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক যে ধারা যেমন প্রশাসনিক, একাডেমিক, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গতি ও আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। যেটি সকলেই দেখছে ও দেখবে।

 

 

 

আর্থিক ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই চার বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক যে অবস্থা ও ব্যবস্থা ছিলো সেটিকে আরও সুচারু ও সুশৃঙ্খল ও আর্থিক ভিতকে মজবুত করতে সক্ষম হয়েছি। একারণেই আমি বলছি যে এবছরের শেষে ও গত চার বছরে চেষ্টায় এবছরে আমাদের বাজেটে কোন ঘাটতি হয়নি। আমরা এমনভাবে আমাদের আয়ের ব্যয়ের একটা সমন্বয় রেখেছি এবং প্রত্যেকটা বিষয় খরচের ক্ষেত্রে পুঙখানুপুঙখ বিশ্লেষণ করে আমরা খরচ করেছি।

 

 

এই অর্থ সালের বাজেট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ১৫৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ১৩৭ কোটি ১৬ লাখ। তা ইউজিসি সংশোধিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫৩ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। দুই অর্থসালের জন্য নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা।

 

 

বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ট্রেজারার হিসেবে যখন দায়িত্বে আসি তখন ইউজিসি ও সরকার থেকে ১৯ ও ২৩ টি অনেক বড় বড় অডিট আপত্তি ছিলো আমরা ইউজিসি ও অডিটের সাথে বসে সেটা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান প্রশাসনের আমলে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মাত্র ৬টি অডিট আপত্তি হয়েছে। বাকি দুুুইটি অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত অডিট আপত্তি নেই।

 

 

২০১২ সালে নিয়েগকৃত ১২৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারী যাদের বেতন কাঠামো ছিলোনা যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সমস্যা ছিলো সেটা রেভিনিউ খাতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

স্কুলের যে বিশাল বেতন কাঠামো ও বাজেট শিক্ষকদের ও অন্যান্যদের জন্য সামান্য কিছু পেতাম সেটাকেও কিন্তু আমরা এখন রেভিনিউ খাতে আনতে পেরেছি। সব মিলিয়ে আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।

 

 

এ পদে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করতে পেরে তিনি খুশি প্রকাশ করে বলেন, আমার বর্তমান রানিংমেটদের সাথে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি । উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য সব সময় আমাকে সহযোগিতা করে আসছেন। ওনারা নির্ভীকভাবে, নিবেদিতভাবে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য স্বপ্ন দেখেছেন, পরিপূর্ণ সময় দিয়েছেন। আমাদের তিনজনের সমন্বয় হয়েছে বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

 

 

সরকার, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, ছাত্র-ছাত্রী, কুষ্টিয়া ঝিনাইদহের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সহযোগিতা করায় তিনি সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে রেখে যাচ্ছি এর ধারাবাহিকতা যদি থাকে তাহলে আগামীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আসীন হবে বলে আমি মনে করি এবং অর্থনৈতিক ভিতটা যে জায়গায় এখন আছে এটি যদি সুচারুভাবে চলতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মপরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কোন সমস্যা হবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই যেন পরবর্তীতে আইনের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করতে পারি।

 

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা ১৯৯১ সালের ১৩ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।