আমার কাঁদতে ইচ্ছা করে: ফারুক আহমেদ

এনামুল হক রাসেল এনামুল হক রাসেল

সম্পাদক, দ্য বিডি রিপোর্ট ২৪ ডটকম

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

ফারুক আহমেদ: স্যুটিং করে ফিরছি পূবাইল থেকে। আমি আর মহসিন(এস এম মহসিন) ভাই। আমার গাড়িতে। রাত তখন আনুমানিক ৮ টা। গাড়ি মীরের বাজার আসার পর আমার ভীষণ ক্ষুধা পেলো। মহসিন ভাইকে বললাম, ভাই আমার ক্ষুধা পেয়েছে। চলেন হোটেল থেকে কিছু খেয়ে নেই।

 

 

মহসিন ভাই বললেন, চলো। আমরা মীরের বাজারের একটা নিম্নমানের হোটেলে গিয়ে বসলাম। আমি মহসিন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কি খাবেন? মহসিন ভাই নিচুস্বরে বললেন, তুমি যা খাও। হোটেলের বয়কে জিজ্ঞেস করলাম ফ্রেস খাবার কি আছে? হোটেল বয় বললো, গরম ভাত, ডাইল আর ছোট মাছ। খাইতে পারেন টাটকা। আমি মহসিন ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই ভাত খাবেন? মহসিন ভাই মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। আমি সংগে সংগে বয়কে ভাত, তরকারি, ডাল দিতে বললাম। অল্প সময়ের মধ্যে খাবার চলে এল। আমরা দ্রুত খাবার খেয়ে গাড়িতে উঠলাম। মহসিন ভাইকে তার সিদ্ধেস্বরীর বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি বাসায় পৌঁছালাম।

 

 

দিনকয়েক পরে কথা। অন্য এক স্যুটিংএ মহসিন ভাইয়ের সাথে দেখা। মেকআপ রুমে সবাই বসে গল্প করছি। এক সময় মহসিন ভাই সবাইকে চুপ করতে বললেন। তাঁর কথায় সাথে সাথে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি ভাবলাম মহসিন ভাই হয়তো কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন। আমিও তার কথা শোনার জন্য স্থির হয়ে রইলাম। মহসিন ভাই কথা বলা শুরু করলেন। জানো? কয়েকদিন আগে ফারুক আমাকে হোটেলে ভাত খাইয়েছে? মাছ আর ডাল দিয়ে। খুব মজার খাবার ছিলো। আমি মহসিন ভাইয়ের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম, মহসিন ভাই এটা এখানে বলার কি আছে? সামান্য ভাত, ডাল আর ছোট মাছ। দুইজনের খাবারের বিল হয়েছিলো সম্ভবত তিনশো টাকা। তারমানে তারজন্য আমার খরচ হয়েছিলো মাত্র দেড়শ টাকা। আমার কাছ থেকে এই অতি সামান্য খাওয়ার গল্প তিনি অতি উৎসাহে সবাইকে বললেন। আমি কোন কথা না বলে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, এত অল্পতে খুশি হয়, জগতে এমন মানুষও আছে! পরবর্তীতেও তিনি বিভিন্নজনকে আমার এই খাওয়ানোর গল্প বলেছেন যা আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি।

 

মহসিন ভাই আপনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। অনেক ভালো। যখনই ভাবি আমিতো আর কোনদিন পুবাইল থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যারাতে মীরের বাজারের সেই নিম্নমানের হোটেলে ছোট মাছের ঝোল দিয়ে আপনাকে ভাত খাওয়াতে পারবোনা। গাড়ি দিয়ে আপনাকে বাসায় নামিয়ে দিতে পারবোনা। গাড়ি থেকে নেমে আর কোনদিন আমাকে বলবেননা, ধন্যবাদ ফারুক। তখনই আমি আমার বুকের ভিতর তীব্র এক বেদনা অনুভব করি। আমার তখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে।

 

লেখক: ফারুক আহমেদ ,অভিনেতা ।

 

পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।